দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বরিশালের বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও হিজলা উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের আঁড়িয়াল খাঁ নদের ওপর বহু আকাঙ্ক্ষিত মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সড়ক ও জনপদ এবং সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই নির্মাণযজ্ঞের শুভ সূচনা করেন। এ সময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
'পুকুরচুরি' রোধে স্থানীয়দের নজরদারি জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সেতু নির্মাণ হলে কেবল যোগাযোগ নয়, এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। তবে তিনি নির্মাণ কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'সেতু নির্মাণে যাতে পুকুরচুরি, নদী চুরি না হয় সেদিকে স্থানীয়দের নজরদারি রাখতে হবে।' উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের মনে রাখতে হবে যে, এই নির্মাণকাজ জনগণের আমানত। তাই জনগণের আমানত মনে করে সেতুর কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এটি সরকারের Public Investment-এর অংশ, যার মান নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টার বক্তব্য: উৎসবমুখরতা কাম্য
মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান অতিথি, সড়ক জনপদ ও সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'আগামী নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক না কেন, জাতি হিসেবে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।'
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের মূল বক্তব্য ছিল, নির্বাচন যেন অবশ্যই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, 'আমাদের একটিই কথা— নির্বাচন যেন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আগের মতো কেউ যাতে ভোটকেন্দ্র দখল না করে।' তিনি আরও জানান, এখন নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এই Democratic Process সুষ্ঠু হওয়া জরুরি।
দেরিতে বাস্তবায়নে বেড়েছে ব্যয়: পুনর্জাগরণের আশা
সেতু প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি ফাওজুল কবির খান জানান, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কোন্দল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই সেতুর বাস্তবায়ন দেরিতে হয়েছে। যার ফলস্বরূপ সেতুর নির্মাণ ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এই বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই সেতুর ফলে এলাকার Logistics Connectivity বাড়বে। এর মাধ্যমে অর্থনীতির পুনর্জাগরণ ঘটবে, মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়বে এবং স্থানীয়ভাবে শিল্প কারখানা ও কৃষির বিকাশ ঘটবে, যা অঞ্চলের Socio-economic Development-এ নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক খায়রুল ইসলাম সুমনসহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এই মীরগঞ্জ সেতু অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে, যা বাবুগঞ্জ-মুলাদী ও হিজলা উপজেলার মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।