ওপার বাংলার জনপ্রিয় গানের রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে জীবনমুখী গানের কিংবদন্তি নচিকেতা চক্রবর্তী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলে, সেই আসর বসেছিল যেন চাঁদের হাট। আর সেখানেই বিচারকের আসনে থাকা জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক জিৎ গাঙ্গুলী শোনালেন তাঁর জীবনের এক অজানা, আবেগঘন গল্পের কথা। তিনি স্মৃতিচারণ করলেন কলেজ জীবনের আক্ষেপ এবং নচিকেতার জাদুকরী প্রতিভার কথা।
নচিকেতার প্রস্তাবে আক্ষেপ
নচিকেতাকে সামনে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জিৎ গাঙ্গুলী। ফিরে যান সেই পুরোনো দিনে, যখন তিনি কলেজে পড়তেন। জিৎ বলেন, 'তখন আমি কলেজে পড়ি। ছোটখাটো প্রোগ্রামে গিটার বাজাতাম। এমনই এক প্রোগ্রামে দেখা হয় নচিদার (নচিকেতা) সঙ্গে।'
নচিকেতার কাছ থেকে সেই সময় একটি অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব পেয়েছিলেন জিৎ। তিনি বলেন, 'অনুষ্ঠান শেষে দাদা আমাকে এসে জিজ্ঞেস করেন— ‘তুই কাল থেকে আমার সঙ্গে বাজাতে পারবি?’ নচিকেতার মতো শিল্পীর সঙ্গে বাজাবো, এটা আমার কাছে তখন ছিল স্বপ্নের মতো।'
তবে সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি জিতের। কণ্ঠে আক্ষেপের সুর তুলে তিনি বলেন, 'এরপরই আমার বাবার একটি বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যায়। জীবনে অনেক ঝড় বয়ে যায়, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। যার কারণে নচিদার সঙ্গে আর গিটার বাজানোর সৌভাগ্যটি আমার হয়নি।' এই ঘটনা জিতের সঙ্গীত জীবনের Career Trajectory-কে বদলে দিয়েছিল।
৫ মিনিটে গান লেখা, এক টেকে গাওয়া: 'জানিনা'-এর রহস্য
গিটার বাজাতে না পারলেও, সুরকার হিসেবে পরবর্তীতে নচিকেতার সঙ্গে জিতের যে জুটি গড়ে ওঠে, তা ওপার বাংলার সঙ্গীত জগতে ইতিহাস সৃষ্টি করে।
জিৎ শেয়ার করেন ওপার বাংলার ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা 'চ্যালেঞ্জ'-এর সেই বিখ্যাত গান 'জানিনা' তৈরির নেপথ্য গল্প। দেব ও শুভশ্রী অভিনীত রোমান্টিক এই গানটির কম্পোজার ছিলেন জিৎ।
তিনি বলেন, 'আমি তখন কম্পোজার। সিনেমার একটা সুন্দর সিচুয়েশন ছিল। নচিদাকে বললাম গানটার কথা। বিশ্বাস করবেন না, মাত্র পাঁচ মিনিটে দাদা গানটা লিখে ফেললেন! এত অপূর্ব লিরিক্স।' এখানেই শেষ নয়, জিৎ আরও জানান, রেকর্ডিংয়ের সময় নচিকেতা চক্রবর্তী গানটা গেয়েছিলেন মাত্র 'এক টেকে'। সুরকার জিতের মুখে 'এক টেকে' গান গাওয়ার এই গল্প শুনে মঞ্চে উপস্থিত প্রতিযোগী থেকে শুরু করে দর্শকরাও অবাক হয়ে যান। নচিকেতার এই Creative Genius এবং পেশাদারিত্ব তাঁকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে।