ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ঝরে গেল ৬টি তাজা প্রাণ। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি প্রায় ৬০০ ফুট গভীর খাদে আছড়ে পড়ে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে নাসিকের কালওয়ান তালুকের সপ্তশ্রিং গড়ের (Saptashrungi Gad) পাহাড়ি এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, গাড়িতে থাকা যাত্রীদের বাঁচার কোনো সুযোগই ছিল না। ৬০০ ফুট নিচে আছড়ে পড়ার পর দুমড়েমুচড়ে যায় গাড়িটি।
৬০০ ফুট গভীর মৃত্যুফাঁদ
সপ্তশ্রিং গড় এলাকাটি মূলত পাহাড়ি এবং তীর্থযাত্রীদের আনাগোনার জন্য পরিচিত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, রোববার বিকেলে গাড়িটি পাহাড়ি বাঁক ঘোরার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এই বিপত্তি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ‘Deep Gorge’ বা গভীর খাদে গিয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, নিহতরা সবাই ঘটনাস্থলেই (Spot Dead) মারা গেছেন। নিহতদের বাড়ি নিফাদ তালুকের পিম্পলগাঁও বসবন্ত এলাকায়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এবং খাদের গভীরতা বেশি থাকায় উদ্ধারকাজ বা ‘Rescue Operation’ শুরু করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবে খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বা ‘Disaster Management’ কমিটির কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ও শোকবার্তা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রের নাসিকে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে ‘Financial Aid’ বা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
ফড়নবিশ বলেন, “সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে আছে। ঘটনাস্থলে পূর্ণ প্রশাসনিক সহায়তা নিয়ে উদ্ধার কাজ চলছে।” পাহাড়ি রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।