বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি পরিচিত ‘গ্রিক গড’ হিসেবে। ভাস্কর্যসম শারীরিক গঠন, মায়াবী চোখ এবং অনবদ্য অভিনয়ের জাদুতে তিনি গত দুই দশক ধরে রাজত্ব করছেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে। তিনি রাকেশ রোশন-পুত্র হৃতিক রোশন। বর্তমানে তিনি ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় Superstar, কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা ছিল একেবারে রূপকথার মতো। আপনি কি জানেন, প্রথম সিনেমা মুক্তির পরপরই এই অভিনেতার কাছে এসেছিল অবিশ্বাস্য সংখ্যক বিয়ের প্রস্তাব? সংখ্যাটা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য—প্রায় ত্রিশ হাজার!
সম্প্রতি জনপ্রিয় কমেডি শো ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে এসে নিজের জীবনের এই ধামাকা ও নস্টালজিক অধ্যায়টি শেয়ার করেছেন হৃতিক। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সময়ের এক অদ্ভুত উন্মাদনার গল্প।
ধুমকেতুর মতো উত্থান ও ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ঝড়
২০০০ সাল। বলিউড বক্স অফিসে মুক্তি পায় রাকেশ রোশন পরিচালিত ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’। এই সিনেমার মাধ্যমেই বলিউডে গ্র্যান্ড Debut হয় হৃতিকের। মুক্তির পরপরই প্রেক্ষাগৃহে যেন ঝড় ওঠে। তথাকথিত নায়কদের ভিড়ে হৃতিকের দুর্দান্ত হাইট, আকর্ষণীয় মাসল, এবং স্টাইলিশ লুক দর্শককে সম্মোহিত করে ফেলে। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা ছিল মার্কিন পপ আইকন মাইকেল জ্যাকসনের ঘরানার দুর্দান্ত ডান্স মুভস, রোম্যান্স এবং অ্যাকশনে সাবলীল পারদর্শিতা।
সব মিলিয়ে প্রথম ছবিতেই তিনি প্রমাণ করে দেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। রাতারাতি তিনি সাধারণ এক নবাগত থেকে গ্লোবাল হার্টথ্রবে (Heartthrob) পরিণত হন। এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ে আসে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
বাড়ির সামনে পাত্রীদের লম্বা লাইন
শো-তে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হৃতিক জানান, সিনেমাটি হিট হওয়ার পর তাঁর বাড়ির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সকালে ঘুম ভাঙার পর জানালার পর্দা সরালেই দেখতাম বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘ লাইন। কেউ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা নিজের ছবি নিয়ে হাজির।”
কৌতুহলজাগানিয়া বিষয় হলো, এই লাইনে শুধু তরুণীরাই ছিলেন না। হৃতিক জানান, বহু মা ও খালা তাঁদের যোগ্য কন্যা বা ভাইঝির জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতেন। সবার একটাই ইচ্ছে, বলিউডের এই হ্যান্ডসাম হিরোর জীবনে একটু জায়গা করে নেওয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যে, ভক্তদের এই বিশাল ভিড় ও Fan Following এড়াতে প্রায়ই পেছনের দরজা দিয়ে লুকিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হতো তাঁকে।
লক্ষ হৃদয়ের ভাঙন ও সুজানের সঙ্গে পরিণয়
ভক্তদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও বিয়ের ৩০ হাজার প্রস্তাব অবশ্য হৃতিককে টলাতে পারেনি। কারণ, পর্দার নায়কের মন তখন বাস্তবেও চুরি হয়ে গিয়েছিল। হৃতিকের হৃদয়জুড়ে তখন ছিল তাঁর বাল্যবন্ধু সুজান খান। ফ্যানদের ভিড় ঠেলে, লুকিয়ে চুরিয়ে প্রেমিকা সুজানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটা ছিল তাঁর নিত্যদিনের এক মধুর রোমাঞ্চকর অভিযান (Adventure)।
তবে এই লুকোচুরি বেশিদিন চলেনি। ক্যারিয়ারের অভিষেক বছরেই, ২০০০ সালে হাজারো তরুণীর হৃদয় ভেঙে দিয়ে প্রেমিকা সুজানের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন হৃতিক। সেই মুহূর্তে লাখো নারী অনুরাগীর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছিল বাতাস, কিন্তু হৃতিক বেছে নিয়েছিলেন তাঁর ভালোবাসাকেই। যদিও পরবর্তীতে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে, তবুও ক্যারিয়ারের শুরুর সেই ৩০ হাজার প্রস্তাবের গল্প আজও বলিউড ইতিহাসের এক অনন্য রেকর্ড হয়ে আছে।