• রাজনীতি
  • ‘জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ফিরবে’: ক্ষমতায় গেলে কৃষি ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ দিলেন তারেক রহমান

‘জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ফিরবে’: ক্ষমতায় গেলে কৃষি ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ দিলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ফিরবে’: ক্ষমতায় গেলে কৃষি ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ দিলেন তারেক রহমান

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষা থেকে তরুণদের জন্য ‘টেক-স্যাভি’ কর্মসংস্থান; দেশ গড়ার পরিকল্পনায় এক মাঠে তিন ফসল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে পুরনো মডেলেই ভরসা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের

ক্ষমতায় গেলে দেশের কৃষি অবকাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট পেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হবে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে গ্লোবাল মার্কেটের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রযুক্তি ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দলের ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থায় ‘জিয়া মডেল’

বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “জিয়াউর রহমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ফসলের ক্ষেতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ (Irrigation) নিশ্চিত করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা সেই সময়ে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিল। আগামী নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচি আবার হাতে নেব।”

তিনি জানান, শুধুমাত্র খাল খননই নয়, কৃষি উৎপাদন বা Agricultural Productivity বহুগুণ বাড়াতে এক জমিতে বছরে তিনটি ফসল ফলানোর (Multi-cropping) উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বা ‘ফিউচার প্ল্যানিং’-এ ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা

জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসীদের নিয়েও বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছিলেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রবাসে যাওয়া ও উপার্জনের পথ তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে ‘স্কিলড ম্যানপাওয়ার’ বা দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেব। যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন।

তরুণদের জন্য ‘গ্লোবাল কম্পিটেন্সি’ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা

দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে তরুণদের টেকনিক্যাল নলেজ বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের দিকে ঝুঁকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, “প্রযুক্তির জ্ঞান থাকলে আমাদের তরুণরা ঘরে বসেই অনেক বেশি আয় (Income Generation) করতে পারবে। এর সঙ্গে যদি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষায় ভাষাগত দক্ষতা (Language Proficiency) থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তাদের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ আরও বাড়বে।”

তিনি আশ্বস্ত করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইটি সেক্টর ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করবে। মানুষের জীবনমান বা ‘কোয়ালিটি অব লাইফ’ উন্নত করতে বিএনপি বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

Tags: tarique rahman bangladesh politics skill development ziaur rahman youth employment bnp plan agriculture reform khal khonon remittance warriors flood control technology news