রাজনীতিতে ‘কথার মারপ্যাঁচ’ নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার নিজের পাতা ফাঁদেই যেন পা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। অভিবাসন বা Immigration ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিতে গিয়ে এমন এক মন্তব্য করে বসেছেন, যা বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তাঁর দিকেই। অভিযোগ তুলেছেন, অভিবাসীরা নাকি ‘আমেরিকান ড্রিম’ (American Dream) চুরি করছে। আর এই মন্তব্যের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল ট্রোলিং। নেটিজেনরা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন—তবে কি আপনার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী উষা ভ্যান্সও চোর?
ডনাল্ড ট্রাম্পের রানিং মেট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে কট্টর অবস্থানে ভ্যান্স। কিন্তু এবার তাঁর নিজের পারিবারিক ইতিহাসই তাঁকে দাঁড় করিয়েছে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে।
‘আমেরিকান ড্রিম’ চুরির অভিযোগ ও ভ্যান্সের বিতর্কিত টুইট
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ভ্যান্সের একটি পোস্ট ঘিরে। সম্প্রতি লুইজিয়ানার এক কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিকের ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি দাবি করেন যে—মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (ICE) অভিযানের পর স্থানীয় শ্রমবাজারে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, “আগে কোনো অভিবাসী কাজে যেতে চাইত না, কিন্তু গত এক সপ্তাহে আমি গত তিন মাসের চেয়ে বেশি কাজের ফোন পেয়েছি।”
এই ভিডিওটি শেয়ার করে জে ডি ভ্যান্স ক্যাপশনে লেখেন এক বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি বলেন, “গণ অভিবাসন বা Mass Immigration-এর আরেক নাম হলো আমেরিকান স্বপ্নের চুরি।” ভ্যান্সের যুক্তি, বিদেশিরা গণহারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করায় স্থানীয় বা নেটিভ আমেরিকান কর্মীদের কাজের সুযোগ (Job Opportunities) নষ্ট হচ্ছে এবং তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নেটিজেনদের প্রশ্নবাণ: ‘উষাকে কবে দেশে পাঠাচ্ছেন?’
ভ্যান্সের এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া (Backlash)। সমালোচকরা আঙুল তোলেন ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে। কারণ, তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ভারতীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান।
একজন ক্ষুব্ধ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আচ্ছা মিস্টার ভ্যান্স, আপনার স্ত্রী কি অভিবাসী পরিবারের ভারতীয় নন? তাহলে তিনিও কি আমেরিকান ড্রিম চুরি করছেন?”
আরেকজন নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন, “আপনার যুক্তিমতে তো তাহলে উষা, তার ভারতীয় পরিবার এবং আপনার সন্তানদেরও ভারতে ফেরত পাঠানো উচিত। বিমানের টিকিট কিনলে আমাদের জানাবেন। কারণ নেতা হিসেবে আপনাকে অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি (Lead by Example) করতে হবে।”
অন্য একজন লিখেছেন, “আপনার স্ত্রী এবং সন্তানরাও কি আমেরিকান স্বপ্ন চুরি করছে? আমি এখন আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকদের প্রতি আপনার ঘৃণা বুঝতে পারছি, কিন্তু এটা কি একটু বেশি চরম প্রতিক্রিয়া হয়ে গেল না?”
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি ও ভ্যান্সের সাফাই
সমালোচনার ঝড়ের মুখেও অবশ্য দমে যাননি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, যারা তাঁর এই মতের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে পুরনো এবং অকার্যকর ইমিগ্রেশন সিস্টেম থেকে সুবিধা নেওয়ার পক্ষপাতী। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ হলে আদতে আমেরিকার শ্রমবাজারই উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে (Immigration Policy) আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে জে ডি ভ্যান্সের কণ্ঠে। তবে নিজের ঘরেই যখন অভিবাসনের শেকড় প্রোথিত, তখন ‘স্বপ্ন চুরির’ এই অভিযোগ যে রাজনৈতিকভাবে কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।