আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’-এর পরিধি আরও বড় হচ্ছে। ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে এই সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এ লক্ষ্যে জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহ্সূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বৈঠক করেছেন ১৫ দলীয় প্রগতিশীল ইসলামী জোটের চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল।
রাজধানীর মিরপুরে বিএসপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রগতিশীল ইসলামী জোট ছাড়াও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ায় লক্ষ্য: একীভূতকরণের আলোচনা
বৈঠকে আগামী নির্বাচনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে বৃহত্তর সুন্নী জোটের সঙ্গে প্রগতিশীল ইসলামী জোটের একীভূত হওয়ার (Merger/Unification) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই জোটের এই আলোচনা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দপ্তর সম্পাদক মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, "প্রগতিশীল ইসলামী জোটের চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সমমনাদের নিয়ে ‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।"
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "আশা করছি, আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে পারব।"
বৃহত্তর ঐক্য ও নিবন্ধিত দলসমূহ
জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদায় বিশ্বাসী সারা দেশের ১২ হাজার দরবারকেও আলাদা জোটের ব্যানারে এক ছাতার নিচে আনা হচ্ছে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সমমনা আরও দল যুক্ত করে জোট সম্প্রসারণের কাজও চলছে।
বর্তমানে বৃহত্তর সুন্নী জোটে থাকা নিবন্ধিত তিনটি দল হলো: বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। এর মধ্যে বিএসপি গত ৩০ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর সুন্নী জোট জাতীয় নির্বাচনে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম (Platform) হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে।