আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবার মেক্সিকো ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ (Tariff) চাপানোর সিদ্ধান্ত নিল। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) মেক্সিকোর সেনেটে এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই নীতিমালার ফলে ভারত তো বটেই, চীনসহ এশিয়ার একাধিক শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।
টার্গেটে ভারত ও এশীয় সাপ্লাই চেইন
মেক্সিকোর নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর এখন থেকে ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে। শুধু ভারত নয়, এই তালিকায় রয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার নামও। মূলত মেক্সিকোর সঙ্গে যেসব দেশের সরাসরি কোনো ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, তাদের ওপরই এই খড়গ নেমে এসেছে।
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এর ফলে মেক্সিকোর বাজারে ভারতীয় গাড়ি (Automobiles), গাড়ির যন্ত্রাংশ, বস্ত্র ও টেক্সটাইল পণ্য, প্লাস্টিক এবং ইস্পাত বা স্টিল সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেক্সিকো সরকারের লক্ষ্য, আগামী বছর থেকে এই ‘অ্যাডিশনাল ট্রেড ট্যারিফ’ এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা এবং একইসঙ্গে তাদের ‘ডোমেস্টিক প্রোডাকশন’ বা দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
কৌশল নাকি ট্রাম্প-তোষণ?
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নয়, বরং কাজ করছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। অনেকেই মনে করছেন, মেক্সিকোর এই ‘পলিসি শিফট’ আসলে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মেক্সিকোর সর্ববৃহৎ ‘ট্রেড পার্টনার’ (Trade Partner)। ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মেক্সিকোকে বিভিন্ন সময় শুল্ক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (USMCA) পুনর্বিবেচনার যে ইঙ্গিত ট্রাম্প দিয়েছেন, তা মেক্সিকোর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের। তাই ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর শুল্ক বাড়িয়ে মেক্সিকো ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গেই আছে।
শুল্ক যুদ্ধের অশনি সংকেত
চলতি বছরের শুরুতেই মেক্সিকো চীনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেছিল। কিন্তু এবার পরিধি আরও বাড়ল। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো সরকারকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্যেও ২৫ শতাংশ কর এবং সম্প্রতি আরও ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ট্রাম্পের এই ক্রমাগত চাপের মুখেই নতি স্বীকার করে ভারত ও চীনের মতো দেশের ওপর শুল্কের বোঝা চাপাল মেক্সিকো। এর ফলে গ্লোবাল মার্কেটে বাণিজ্যের ভারসাম্য এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।