• দেশজুড়ে
  • ৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষেও বাঁচানো গেল না শিশু সাজিদকে: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার বর্ণনা

৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষেও বাঁচানো গেল না শিশু সাজিদকে: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার বর্ণনা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষেও বাঁচানো গেল না শিশু সাজিদকে: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার বর্ণনা

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মাটির ৫০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী উদ্ধার অভিযান শেষে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং স্থানীয়দের আবেগপ্রবণ হয়ে প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টার কারণে শিশুটি চাপা পড়ে যায় বলে জানান ।

উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিশদ বর্ণনা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা শিশু সাজিদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। বাচ্চাটির দেহ ধরার পর আমরাও কিছুক্ষণের জন্য আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পর জানতে পারি তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

স্থানীয়দের প্রাথমিক চেষ্টার ফল বিপরীত ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, এটি কোনো সাধারণ উদ্ধার অভিযান ছিল না। আগুন নেভানো বা পানিতে ডুবে যাওয়া উদ্ধারের চেয়ে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। পাইপটির ব্যাস ছিল মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি। তিনি উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আবেগের বশবর্তী হয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তাদের এই চেষ্টার ফলে পাইপের ভেতরে প্রচুর মাটি ও খড়কুটো পড়ে যায়, যার কারণে শিশু সাজিদ মাটির নিচে চাপা পড়ে ।

ক্যামেরায় শনাক্ত না হওয়ার আশঙ্কা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থলে এসে যখন সার্চ ভিশন ক্যামেরা (Search Vision Camera) প্রবেশ করান, তখন ভিকটিমের কোনো অস্তিত্ব বা হাত-পা দেখা যাচ্ছিল না—দেখা যাচ্ছিল শুধু মাটি ও খড়কুটো। এতে তারা ভয় পেয়ে যান। তবুও শিশুটি বেঁচে থাকতে পারে, এই আশা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা সেফটি বজায় রেখে তারা কাজ করেছেন ।

উদ্ধার কৌশলে যান্ত্রিক ও ম্যানুয়াল পদ্ধতি উদ্ধার কাজে তিনটি এক্সকেভেটর ব্যবহার করা হলেও মূল পাইপের স্থানটিকে কম্পনমুক্ত (Vibration-Free) রাখতে যান্ত্রিক ও ম্যানুয়াল (হাতে খনন) পদ্ধতির সংমিশ্রণে ‘ইমপ্রোভাইজড’ (Improved) কৌশলে কাজ করা হয়েছে বলে জানান তাজুল ইসলাম। তিনি এই অভিযানে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, সাংবাদিক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।

অরক্ষিত গর্ত নিয়ে উদ্বেগ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অরক্ষিত গর্ত ফেলে রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রজেক্টের কাজ শেষে ছোট ছোট ‘লুপহোল’ বা গর্ত এভাবে অরক্ষিত রেখে যাওয়ার কারণে এর আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে, আজও ঘটল। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে রাকিব উদ্দীনের ছেলে শিশু সাজিদ গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় । এই মর্মান্তিক ঘটনায় উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tags: fire service rajshahi rescue operation sajid tanore child death unsecured pits