• দেশজুড়ে
  • ৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার ট্র্যাজিক সমাপ্তি: গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশু সাজিদের নিথর দেহ

৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার ট্র্যাজিক সমাপ্তি: গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশু সাজিদের নিথর দেহ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার ট্র্যাজিক সমাপ্তি: গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশু সাজিদের নিথর দেহ

মাটির ৫০ ফুট গভীরে জীবনের লড়াই; ফায়ার সার্ভিসের আপ্রাণ প্রচেষ্টার পর উদ্ধার হলেও হাসপাতালেই নিভে গেল ২ বছরের সাজিদের জীবনপ্রদীপ।

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান হলো চরম বিষাদে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মাটির প্রায় ৫০ ফুট গভীর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হাসপাতালে নিভে গেল আশার আলো

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শিশু সাজিদকে উদ্ধার করে দ্রুত তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপেক্ষমান Medical Team তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু সকল আশার অবসান ঘটিয়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকরা জানান, সাজিদ আর বেঁচে নেই।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার পর শিশুটির Vital Signs পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ তার শোকসন্তপ্ত বাবার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

মাটির ৫০ ফুট গভীরে দীর্ঘ ‘রেসকিউ অপারেশন’

বৃহস্পতিবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন শিশুটিকে মাটির ৫০ ফুট নিচের অন্ধকার গর্ত থেকে তুলে আনেন, তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। এই দীর্ঘ Rescue Operation-এর সমাপ্তি ঘটে একটি ট্র্যাজেডিতে।

উদ্ধার অভিযানের পর রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “এ ধরনের মৃত্যু আসলে কারোরই কাম্য নয়। আমাদের সবাইকে Safety Awareness বা সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে সাজিদের মতো এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”

যেভাবে ঘটল হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা

ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে কৃষি জমিতে কাজ চলছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি থেকে মাটি বহন করার সময় একটি ট্রলি আটকে যায়। শিশু সাজিদের বাবা রাকিব ও তার মা তাদের সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই সেই আটকে পড়া ট্রলিটি দেখতে গিয়েছিলেন।

বাবা-মায়ের অলক্ষ্যে শিশুটি কোল থেকে নেমে জমির আইল ধরে হাঁটছিল। ঠিক সেই সময়েই অরক্ষিত এবং পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের ওই সরু গর্তে পড়ে যায় সে। মুহূর্তের অসতর্কতায় সাজিদ চোখের আড়ালে চলে যায় মাটির গভীর অন্ধকারে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট Search and Rescue কার্যক্রম শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করে দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা অবিরাম চেষ্টার পর শিশুটিকে গর্ত থেকে বের করে আনা সম্ভব হলেও, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।

Tags: fire service tragic death bangladesh news rescue operation rajshahi news child rescue tanore tragedy deep tubewell