ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী (Independent Candidate) এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ঘটনাকে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচির ঘোষণা
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বিএনপির ‘রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ‘Law and Order’ (আইনশৃঙ্খলা) পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। রিজভী স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যেই একটি বিশেষ মহল এই ধরনের সহিংস পথ বেছে নিয়েছে।
‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “দুষ্কৃতকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ করেছে, যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুগভীর এবং ‘Planned Conspiracy’ (পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র)-এর অংশ।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিতেই এই ধরনের ‘Targeted Attack’ চালানো হচ্ছে।
তিনি প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার ‘Impartial Investigation’ (নিরপেক্ষ তদন্ত) নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ‘Culprits’ (অপরাধীদের) দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে রাজপথে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের রূপরেখা
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে বিএনপিসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দলীয় প্রার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি ‘Public Domain’-এ জোরালোভাবে উত্থাপন করা।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, এই বিক্ষোভ নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। দলের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ অথচ দৃঢ় অবস্থানে থেকে রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। শরিফ ওসমান হাদির ওপর এই হামলার ঘটনা নির্বাচনী আমেজ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।