• আন্তর্জাতিক
  • ‘আলোচনায় বা অন্য পথে’—মাদুরোর বিদায় অনিবার্য, অসলো থেকে হুঁশিয়ারি নোবেলজয়ী মাচাদোর

‘আলোচনায় বা অন্য পথে’—মাদুরোর বিদায় অনিবার্য, অসলো থেকে হুঁশিয়ারি নোবেলজয়ী মাচাদোর

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘আলোচনায় বা অন্য পথে’—মাদুরোর বিদায় অনিবার্য, অসলো থেকে হুঁশিয়ারি নোবেলজয়ী মাচাদোর

দীর্ঘ এক বছরের আত্মগোপন ও সরকারি ‘Travel Ban’ উপেক্ষা করে নরওয়েতে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী; লক্ষ্য এবার শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ‘Power Transition’

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আত্মগোপন পর্ব এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা ভেদ করে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন ভেনেজুয়েলার অবিসংবাদিত বিরোধী নেত্রী ও সদ্য নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে পা রেখেই তিনি এক প্রকার রাজনৈতিক বোমা ফাটালেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মাচাদো স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে—সেটা আলোচনার টেবিলে হোক কিংবা অন্য যেকোনো উপায়ে।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে পরিচিত মাচাদোর এই আকস্মিক উপস্থিতি এবং কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, মাদুরোর বিদায় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

সরকারি নিষেধাজ্ঞা, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ‘Fugitive’ (পলাতক) হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে গত বৃহস্পতিবার নাটকীয়ভাবে নরওয়েতে পৌঁছান মাচাদো। নিজের দেশে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। অসলোতে সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষায় দেয়া বক্তব্যে মাচাদো বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে হোক বা আলোচনাবিহীনভাবেই হোক—মাদুরো ক্ষমতা ছাড়বেন। আমার বর্তমান ফোকাস হলো একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর (Peaceful Power Transition) নিশ্চিত করা।’

তাঁর এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলার টালমাটাল রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মাচাদোর এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা কারাকাসের অস্বস্তির ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক চাপ ও মার্কিন সমীকরণ

মাচাদোর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি চরম উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বা ‘Military Presence’ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

গত বুধবারই ট্রাম্প প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছ থেকে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে মাচাদোর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসা, অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে মাদুরো সরকারের ওপর যে বহুমুখী চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

নোবেল বিতর্ক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন

চলতি বছর অক্টোবরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন মাচাদো। তবে নরওয়েতে এই পুরস্কার ঘোষণার পরপরই মাদুরো সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। প্রতিবাদ হিসেবে অসলোতে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয় কারাকাস এবং মাচাদোর ওপর কঠোর বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা ‘Travel Ban’ আরোপ করা হয়।

ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মাচাদোর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি তদন্ত (Criminal Investigation) চলমান। এমতাবস্থায় তিনি দেশত্যাগ করলে তাকে পলাতক অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক বাধার দেওয়াল টপকে মাচাদো গোপনে দেশ ছাড়তে সক্ষম হন।

যদিও গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত মূল নোবেল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি, তবুও তাঁর অনুপস্থিতিতেই সম্মাননা প্রদান সম্পন্ন হয়। দেরিতে হলেও নরওয়েতে পৌঁছে মাচাদো বুঝিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত নির্বাচন ও দমনপীড়ন

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংঘাতের মূল গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিরোধী দলীয় প্রাইমারিতে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও মাচাদোকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন গ্রেফতার অভিযান বা ‘Crackdown’ শুরু হলে মাচাদো আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।

আজ অসলোর মাটিতে দাঁড়িয়ে মাচাদো যে ‘Political Change’-এর ডাক দিয়েছেন, তা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tags: nicolas maduro venezuela crisis us sanctions political transition world news regime change venezuela politics maria corina machado nobel peace prize oslo conference