শীতের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে, তেমনি মানবদেহেও দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা। এর মধ্যে অন্যতম এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক সমস্যা হলো সাইনাস বা ‘Sinusitis’। শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং ধুলোবালি বাড়ার কারণে সাইনাসের রোগীরা তীব্র মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভোগেন। মূলত ‘Viral Infection’, অ্যালার্জি কিংবা নাকের হাড়ের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে নাকের ভেতরের ঝিল্লি ফুলে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুট করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং শুষ্ক বাতাস সাইনাসের প্রধান শত্রু। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ঘরোয়া কিছু নিয়ম বা ‘Home Remedies’ মেনে চললে এই যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সাইনাসের ব্যথাকে বশে আনতে এবং শীতকালটা আরামে কাটাতে মেনে চলুন এই ৭টি জাদুকরী টিপস।
১. স্টিম ইনহেলেশন বা ভাপ নেওয়া
সাইনাসের বন্ধ নাক খুলতে গরম পানির ভাপ বা ‘Steam Inhalation’-এর কোনো বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ২-৩ বার গরম পানির ভাপ নিলে নাকের ভেতরে জমে থাকা কফ বা মিউকাস নরম হয়ে বেরিয়ে আসে, যা সাইনাসের চাপ কমায়। কার্যকারিতা বাড়াতে ফুটন্ত পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল বা পুদিনার তেল (Menthol) মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি শ্বাসতন্ত্রের পথ পরিষ্কার করতে দারুণ কাজ করে।
২. শরীর হাইড্রেটেড রাখা
শীতকালে তৃষ্ণা কম পায় বলে অনেকেই পানি পান কমিয়ে দেন। এটি সাইনাস রোগীদের জন্য মারাত্মক ভুল। শরীর পানিশূন্য বা ‘Dehydrated’ হয়ে পড়লে মিউকাস ঘন হয়ে যায় এবং নাসারন্ধ্র আটকে ফেলে। তাই সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। শরীর আর্দ্র থাকলে মিউকাস পাতলা থাকে এবং সহজেই বের হয়ে যায়।
৩. নাসাল ওয়াশ বা নাক পরিষ্কার রাখা
নাকের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অ্যালার্জেন দূর করতে ‘Nasal Wash’ অত্যন্ত কার্যকর। এ ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে বা ফার্মেসিতে পাওয়া যাওয়া স্যালাইন ওয়াটার দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে। এটি নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমায় এবং ‘Nasal Passage’ বা বায়িপথ পরিষ্কার রেখে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে।
৪. গরম পানীয়ের অভ্যাস শীতে ঠান্ডা পানি পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। এর বদলে খাদ্যতালিকায় রাখুন গরম স্যুপ, ভেষজ চা (Herbal Tea) কিংবা মধু ও লেবু মিশ্রিত গরম পানি। আদা-চা বা তুলসী চা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা গলার খুশখুশে ভাব কমানোর পাশাপাশি নাকের জমাটভাব দূর করতে সাহায্য করে।
৫. ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ
শীতের শুষ্ক বাতাস ঘরের ভেতরের পরিবেশকেও শুষ্ক করে তোলে, যা সাইনাসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে ঘরে ‘Humidifier’ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এটি বাতাসের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে রাতে ঘুমের সময় নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা কমে।
৬. গরম সেঁক বা ওয়ার্ম কম্প্রেস
সাইনাসের কারণে কপাল, চোখের নিচে বা গালে প্রচণ্ড ব্যথা হলে গরম সেঁক বা ‘Warm Compress’ খুব আরামদায়ক। একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে কপাল ও নাকের দুপাশে আলতো করে চেপে ধরুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং সাইনাসের চাপে সৃষ্ট ব্যথা দ্রুত কমে।
৭. ধুলোবালি ও ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা
শীতের সময় বাতাসে ধুলিকণা ও দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ‘Dust Allergy’-র প্রধান কারণ। তাই বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। এছাড়া বাইক চালানোর সময় বা ভোরে ও রাতে চলাফেরা করার সময় কান-মাথা ঢেকে রাখুন, যাতে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস না লাগে।