দীর্ঘ পাঁচ বছরের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে ঢেলে সাজানো হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী ইউনিট, যুক্তরাজ্য শাখা। পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে আবদুস কালাম আজাদকে আহ্বায়ক এবং খসরুজ্জামান খসরুকে সদস্য সচিব করে ঘোষণা করা হয়েছে নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি (Partial Convening Committee)।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ‘অর্গানাইজেশনাল রিস্ট্রাকচারিং’ বা সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কথা নিশ্চিত করা হয়। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (Press Release) জানানো হয়, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এই নতুন নেতৃত্ব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের গ্রিন সিগন্যাল ও নতুন সমীকরণ
বিএনপির প্রবাসী শাখাগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি সবসময়ই রাজনৈতিক ও কৌশলগত (Strategic) কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই ইউনিটে নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বিরাজ করছিল। সোমবারের এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটলো।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমান কমিটি একটি আংশিক কমিটি। খুব শীঘ্রই দলের গঠনতন্ত্র মেনে এবং সকলের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি (Full-fledged Convening Committee) ঘোষণা করা হবে, যা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী নির্বাচিত কমিটি গঠনে কাজ করবে।
মালিক-কয়ছর যুগের সমাপ্তি
যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটিটি গঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এম এ মালিক সভাপতি এবং কয়ছর এম আহমেদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের (Political Landscape Shift) পর দৃশ্যপট বদলে যায়।
বিগত কয়েক মাস ধরে এম এ মালিক ও কয়ছর এম আহমেদ লন্ডনের পাট চুকিয়ে দেশের রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় (Active) ভূমিকা পালন করছেন। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এমতাবস্থায়, যুক্তরাজ্য বিএনপির একটি বড় অংশ এবং সাধারণ কর্মীরা নতুন ও কার্যকর নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই দলের নীতিনির্ধারকরা এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেন।
নতুন নেতৃত্ব—আবুল কালাম আজাদ ও খসরুজ্জামান খসরুর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাজ্যে দলের অভ্যন্তরে ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং প্রবাসে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করা।