ঢাকা-৮ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ছায়াসঙ্গী’ ও অন্যতম সহযোগী কবিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পাগলা এলাকায় এক গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
আত্মগোপন ও গ্রেফতারের অভিযান
ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিলেন কবির। র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ নাঈম উল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (Press Release) জানান, হাদির ওপর হামলার পরপরই কবির রাজধানী ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যান। সেখানে ফতুল্লায় এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করেন তিনি। তবে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি (Intelligence Surveillance) ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং সোমবার রাতে ঝটিকা অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত কবিরের মূল বাড়ি পটুয়াখালী সদরের টিটকাটা এলাকায় (মৃত মোজাফফরের ছেলে), তবে বর্তমানে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের আশ্বিনানগর এলাকায় বসবাস করতেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল এক দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ। বিভিন্ন মিডিয়াতে (Media) প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার আগে গত ৪ ডিসেম্বর কবির এবং প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ একাধিকবার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে প্রবেশ করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, হামলার ছক কষতেই তারা সেখানে রেকি (Recce) বা বৈঠক করেছিলেন। হামলার পরপরই গ্রেফতার এড়াতে কবির, ফয়সাল এবং বাইক চালক আলমগীর একযোগে গা ঢাকা দেন।
হাদির ওপর হামলার লোমহর্ষক বিবরণ
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি একটি রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে হাদির মাথায় গুরুতর জখম হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় এবং জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। পরবর্তীতে তদন্তে প্রধান শুটার হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং বাইক চালক হিসেবে আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও হস্তান্তর
গ্রেফতারের পর কবিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার (Legal Proceedings) জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (DB Police) হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার মূল হোতা ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান এবং হামলার মূল মোটিভ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।