• আন্তর্জাতিক
  • কৃষ্ণসাগরে এফ-১৬ এর গর্জনে ভস্মীভূত অজ্ঞাত ড্রোন, যুদ্ধের উত্তেজনায় তুরস্কের কঠোর বার্তা

কৃষ্ণসাগরে এফ-১৬ এর গর্জনে ভস্মীভূত অজ্ঞাত ড্রোন, যুদ্ধের উত্তেজনায় তুরস্কের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কৃষ্ণসাগরে এফ-১৬ এর গর্জনে ভস্মীভূত অজ্ঞাত ড্রোন, যুদ্ধের উত্তেজনায় তুরস্কের কঠোর বার্তা

আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় ন্যাটো-নিযুক্ত যুদ্ধবিমানের মিসাইলে ধ্বংস হলো সন্দেহভাজন আকাশযান; বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে কৃষ্ণসাগরে চরম সতর্কতা জারি করেছে আঙ্কারা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে এমনিতেই উত্তপ্ত কৃষ্ণসাগর। তার মধ্যেই তুরস্কের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা একটি অজ্ঞাত পরিচয় ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান (UAV) গুলি করে ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমানবাহিনী। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।

আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ ও এফ-১৬ এর 'ইন্টারসেপ্ট'

তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাডারে একটি সন্দেহভাজন আকাশযানের গতিবিধি ধরা পড়ে। এটি তুরস্কের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে NATO-নিযুক্ত এবং জাতীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত এফ-১৬ (F-16 Fighter Jets) যুদ্ধবিমানগুলোকে 'স্ক্র্যাম্বল' বা জরুরি সতর্ক মিশনে পাঠানো হয়।

যুদ্ধবিমানগুলো দ্রুত আকাশযানটির কাছে পৌঁছায় এবং নিশ্চিত হয় যে এটি একটি নিয়ন্ত্রণহীন ড্রোন। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা গোষ্ঠীর পরিচয় না মেলায় এবং সম্ভাব্য নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে, একটি নিরাপদ জোন বা Safe Zone-এ ড্রোনটিকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষের এই ত্বরিত পদক্ষেপ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতারই প্রমাণ।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা: রণক্ষেত্রে পরিণত কৃষ্ণসাগর

এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলটি কার্যত একটি বারুদস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাত্র কদিন আগেই কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইউক্রেনের নৌবাহিনী।

এর ঠিক পরপরই, গত শুক্রবার ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে রুশ বাহিনীর মিসাইল হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি তুর্কি মালিকানাধীন Cargo Ship। একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। আঙ্কারা স্পষ্টভাবে বিবাদমান পক্ষগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধের আগুন বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল বা Merchant Shipping-এর ওপর ছড়িয়ে না পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত না ঘটায়।

নিরাপদ করিডোরের খোঁজে আঙ্কারার কূটনৈতিক তৎপরতা

যুদ্ধের মধ্যেও যাতে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য ২০২২ সালে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় 'শস্য চুক্তি' বা Grain Deal স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সেই ধাঁচের একটি নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্ক জাহাজ চলাচল এবং Energy Infrastructure বা জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় সীমিত পরিসরে হলেও একটি নিরাপত্তা চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে গত শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "যদি এই মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বা Ceasefire সম্ভব নাও হয়, তবুও অন্তত দুটি বিষয়ে আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি—প্রথমত, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখা এবং দ্বিতীয়ত, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।"

তুরস্কের এই কঠোর অবস্থান এবং তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কৃষ্ণসাগরের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এরদোয়ান প্রশাসন যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

Tags: turkey defense breaking news black sea unknown drone f-16 jet russia ukraine cargo ship