গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চাকচিক্য আর ক্রিকেট মাঠের প্রবল উত্তেজনা—সবকিছুকে পেছনে ফেলে ফের আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে ছুটলেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ‘পাওয়ার কাপল’ (Power Couple) বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা। দীর্ঘ দিন লন্ডনে ছুটি কাটিয়ে সন্তানদের নিয়ে দেশে ফেরার ঠিক এক সপ্তাহের মাথাতেই তাঁরা পৌঁছে গেলেন পুণ্যভূমি বৃন্দাবনে। সেখানে প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ জি মহারাজের আশ্রমে একান্তে সময় কাটালেন এই তারকা দম্পতি।
শান্তি ও সাফল্যের খোঁজে ঐশ্বরিক দরবারে
জানা গিয়েছে, বৃন্দাবনের বরাহ ঘাটে অবস্থিত প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে এই বিশেষ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, প্রায় আধঘণ্টা ধরে মহারাজের সান্নিধ্যে ছিলেন ‘বিরুষ্কা’। তবে এটি কোনো সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং জীবনের গভীর দর্শন ও মানসিক প্রশান্তির খোঁজে তাঁরা মহারাজের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। মহারাজ তারকা দম্পতিকে আলাদা করে সময় দেন এবং তাঁদের দাম্পত্য ও কর্মজীবনের পাথেয় হিসেবে কিছু বিশেষ পরামর্শ বা ‘গোপন মন্ত্র’ প্রদান করেন।
মহারাজের ‘লাইফ হ্যাক’: কর্মই যখন ধর্ম
সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ও ‘ভজন মার্গ’-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই সাক্ষাতের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত বিনম্র ভঙ্গিতে মেঝের ওপর বসে মহারাজের উপদেশ শুনছেন বিরাট ও অনুষ্কা। ভিডিওতে মহারাজ তাঁদের কর্মজীবন বা Career-কে শুধুমাত্র পেশা হিসেবে না দেখে, ‘ঈশ্বরের সেবা’ হিসেবে গণ্য করার পরামর্শ দেন।
প্রেমানন্দ মহারাজ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “নিজেদের কার্যক্ষেত্রকে ভগবানের সেবা বলে মনে করতে হবে। যতই সাফল্যের শিখরে ওঠো, সর্বদা বিনম্র (Humble) থাকতে হবে। আর নিয়মিত ভগবানের নাম জপ করতে হবে।” মহারাজের মতে, এই তিনটি বিষয় মেনে চললে জীবনে কেবল সাফল্যই আসবে না, বরং মনের গভীর শান্তি বজায় থাকবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মধুর ও মজবুত হবে।
বারবার বৃন্দাবনের টানে
বিরাট-অনুষ্কার আধ্যাত্মিক চেতনার কথা নতুন নয়, তবে চলতি বছরে বৃন্দাবনের প্রতি তাঁদের টান যেন আরও গভীর হয়েছে। এই নিয়ে তৃতীয়বার প্রেমানন্দ মহারাজের আশীর্বাদ নিতে এলেন তাঁরা। এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই, জানুয়ারি মাসে সন্তানদের নিয়ে তাঁরা এখানে এসেছিলেন। পরবর্তীতে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর এবং ক্রিকেট জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদলের সময়েও (মে মাসে) মানসিক শক্তি সঞ্চয়ের জন্য তাঁরা ছুটে এসেছিলেন এই আশ্রমেই।
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আর সাফল্যের জোয়ারে ভাসলেও, শেকড়ের টানে ও আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে ‘বিরুষ্কা’র এই বারবার ফিরে আসা তাঁদের অগণিত ভক্তের কাছে এক নতুন জীবনবোধের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।