প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৫.১ মাত্রার (Magnitude) এই কম্পনে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) কেঁপে ওঠে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষ করে রাজধানী তাইপেতে বহুতল ভবনগুলো তীব্রভাবে দুলতে থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও তীব্রতা
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (Central Weather Administration) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল (Epicenter) ছিল দেশটির পূর্ব উপকূলীয় শহর হুয়ালিয়েন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩১.৬ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। কম্পনের গভীরতা তুলনামূলক কম হওয়ায় এর তীব্রতা রাজধানী তাইপে পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।
আতঙ্কিত রাজধানী তাইপে
ভূমিকম্পের সময় রাজধানী তাইপের বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ড ধরে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। অফিস-আদালত এবং আবাসিক ভবনগুলোর আসবাবপত্র দুলতে শুরু করলে লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কোনো অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সম্ভাব্য আফটারশক (Aftershock) মোকাবিলায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ভৌগোলিক ঝুঁকি ও টেকটোনিক প্লেট
তাইওয়ানের অবস্থান মূলত দুটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটের (Tectonic Plate) সংযোগস্থলের কাছে। ইউরেশিয়ান প্লেট এবং ফিলিপাইন সি প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় সিসমিক জোন (Seismic Zone) হিসেবে পরিচিত। ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, প্লেটগুলোর ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে এই দ্বীপে নিয়মিত বিরতিতে মাঝারি থেকে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
স্মৃতিতে অতীতের ভয়াবহতা
তাইওয়ানে সাম্প্রতিক এই কম্পন ১৯৯৯ সালের সেই ভয়ংকর স্মৃতিকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে। সে বছর রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং কয়েক হাজার ভবন ধসে পড়েছিল। এছাড়া ২০১৬ সালেও দক্ষিণ তাইওয়ানের এক ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ নিহত হন। গত কয়েক দশকে তাইওয়ান তাদের ভবন নির্মাণ শৈলী ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে আমূল পরিবর্তন আনলেও, ঘনঘন ভূ-কম্পন দ্বীপটির সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময়ই এক ধরণের অজানা উৎকণ্ঠা জিইয়ে রাখে।
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং কোনো সুনামি সতর্কতা (Tsunami Warning) জারি করা হয়নি। তবে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।