গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে একটি কার্টন তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Massive Fire) ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে পূবাইল থানাধীন বসুগাঁও এলাকায় অবস্থিত ‘দিশারী কম্পোজিট লিমিটেড’ নামক কারখানায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের সম্মিলিত ও নিরলস প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
মুহূর্তেই রণক্ষেত্র বসুগাঁও: ছড়াল আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের রেশ কাটতে না কাটতেই কারখানার ভেতরে আগুনের শিখা দেখা যায়। কার্টন তৈরির কাঁচামাল (Raw Materials) ও তৈরি পণ্য অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। বিশাল এলাকাজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা দ্রুত বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের সাঁড়াশি অভিযান
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা ও পানির স্বল্পতার কারণে দ্রুত আরও ব্যাকআপ চাওয়া হয়। পরবর্তীতে গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের ২টি এবং জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের আরও ২টি ইউনিটসহ মোট ৭টি ইউনিট দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা যুদ্ধ চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ কাগজ, আঠা এবং কেমিক্যাল মজুত থাকায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। দাহ্য পদার্থের (Flammable materials) উপস্থিতির কারণে আগুনের ‘ইনটেনসিটি’ ছিল অনেক বেশি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ক্ষয়ক্ষতি
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহিন আলম গণমাধ্যমকে জানান, "প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের (Casualty) খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার সংলগ্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।"
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের কয়েক কোটি টাকার মেশিনারিজ এবং তৈরি পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কিছু, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে ঘনঘন এমন অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কারখানাগুলোর ফায়ার সেফটি (Fire Safety) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত মহড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।