নির্বাচন বানচাল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, পতনের পর পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী ও দেশে উত্থান হওয়া উগ্রবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউজে আক্রমণ চালিয়ে বহিঃর্বিশ্বে এই বার্তা দিতে চায় যে, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ উগ্রবাদীদের কবলে চলে গেছে। এর মাধ্যমে তারা দেশবাসীকে বোঝাতে চায় যে, দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও সরকারের নির্লিপ্ততা
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, শুধু মিডিয়া হাউস নয়, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, মাজার ও সাংস্কৃতিক উৎসবে বাধা প্রদান করে তারা দেশের উদারনৈতিক রাষ্ট্রীয় চরিত্রকে পাল্টে দিতে চায়। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা, উদাসীনতা ও নীরবতার কারণে আধিপত্যবাদী, ফ্যাসিবাদী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারে উৎসাহিত হচ্ছে। মিডিয়া হাউজে হামলার সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। এই ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেই বিএনপি শহীদ মিনারে যায়নি।
হাদি হত্যাকাণ্ড ও বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা
ওসমান হাদীকে গুলি করার মতো নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রিন্স বলেন, তারা হাদির সংগঠনের সঙ্গে সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়েছেন। তবে পরিকল্পিতভাবে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে সুকৌশলে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়। তিনি বলেন, 'ব্যর্থ হয়ে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিকল্পিতভাবে সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের প্রমাণ করেছে।' তিনি সবাইকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
হাজং সম্প্রদায়ের 'দেউলী উৎসব' ও বিএনপির অঙ্গীকার
প্রিন্স হাজং সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসব 'দেউলী উৎসব' সম্পর্কে বলেন, এটি তাদের আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো— কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা। এই উৎসবের মাধ্যমে নবান্ন উদ্যাপন, কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং দেবতা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ভাষা, সংস্কৃতি, লোকজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি জোরদার করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আগামী দিনে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণ, দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান, ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়ভাবে কাজ করবে। এজন্য পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে। হালুয়াঘাটের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিকে গারো সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হাজং সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, চর্চা ও বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।