হেনস্তার ঘটনা ও ইউট্যাবের উদ্বেগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অন্যতম খ্যাতনামা সাংবাদিক নূরুল কবীরের সঙ্গে অসদাচরণ এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা ছিল 'অনাকাঙ্ক্ষিত', যা মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর 'চরম আঘাতের শামিল'। তারা উল্লেখ করেন, 'চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের নতুন বাংলাদেশে' এ ধরনের ঘটনা 'একেবারেই সমীচীন নয়'।
ঘটনার বিবরণ ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রশ্ন
ইউট্যাবের নেতারা জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গণমাধ্যম ও মুক্তচিন্তার পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত নির্ভীক সাংবাদিক নূরুল কবীরকে যেভাবে বাধা প্রদান ও লাঞ্ছনা করা হয়েছে, তা 'অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অনভিপ্রেত'। তারা মনে করেন, একজন প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ স্বাধীন সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের এবং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন সাধারণ মানুষের অবাধ চলাফেরা ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে 'রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন কর্মকাণ্ড জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয়'।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি
ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা জোর দিয়ে বলেন, নূরুল কবীর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বীরযোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসনে হুমকির মুখেও তিনি কখনও সত্যি কথা বলা বন্ধ করেননি। এমন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকের প্রতি এ ধরনের আচরণ 'কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়'।
তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিককে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ইউট্যাব দেশের সাংবাদিক সমাজ ও মুক্তচিন্তার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।