দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০২৫' উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বিশেষ বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে আপোষহীন বিজিবি
ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক পাচার এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে বিজিবি সবসময়ই সামনের সারিতে থেকে কাজ করছে। তিনি বলেন, “সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এ বাহিনীর সদস্যরা যে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্ডারে অপরাধ দমনে তাদের ‘Zero Tolerance’ নীতি জনমনে আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিজিবির ভূমিকা
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিজিবির বিশেষ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিজিবি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত উত্তেজনা মোকাবিলা এবং পুশইন (Push-in) রোধে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপোষ না করে যেকোনো Security Risk বা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি যে আধুনিক ও চৌকস বাহিনীর পরিচয় দিয়েছে, তা দেশের মানুষের কাছে বিজিবির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষতা
বিজিবি কেবল সীমান্তে নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো 'National Emergency' বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও বিজিবি একটি বিশ্বস্ত নাম। দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে উদ্ধার অভিযানে বিজিবির মানবিক কর্মকাণ্ড বাহিনীর পেশাদারিত্বের বহুমুখী দিককে উন্মোচিত করেছে।
গৌরবময় ইতিহাস ও উত্তরাধিকার
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিজিবি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।” তিনি পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দুই বীরশ্রেষ্ঠসহ বিজিবির সেই ১১৯ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৮১৭ জন শহীদের আত্মত্যাগ, যারা দেশমাতৃকার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের এই ত্যাগ বিজিবির প্রতিটি সদস্যের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
পরিশেষে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য শুভকামনা জানান।