ইউরোপীয় ফুটবলের ধ্রুপদী আভিজাত্য এবার পাড়ি জমাচ্ছে ক্যাঙ্গারুর দেশে। দীর্ঘ ১২৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তর 'Serie A'-র কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইতালির ভূখণ্ড তথা ইউরোপের বাইরে। আগামী ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এসি মিলান ও কোমোর মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটির ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন সিরি আ-র সভাপতি এজিও সিমোনেলি।
লা লিগা যা পারেনি, তা-ই করে দেখাচ্ছে সিরি আ
বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক প্রসারে ইউরোপীয় লিগগুলোর ম্যাচ অন্য মহাদেশে আয়োজনের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি স্প্যানিশ লা লিগা কর্তৃপক্ষ বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে আয়োজন করতে চাইলেও ক্লাব ও ফুটবলারদের তীব্র বিরোধিতায় তা ভেস্তে যায়। তবে ইতালিয়ান লিগ কর্তৃপক্ষ সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে ফুটবল বিশ্বে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে। ইতালিয়ান সুপার কাপের সূচিতে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন লিগ প্রধান সিমোনেলি। সেখান থেকেই তিনি নিশ্চিত করেন যে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সফল আলোচনার পরই পার্থে ম্যাচ আয়োজনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এশীয় রেফারির অধীনে ইতালিয়ান জায়ান্টরা
এই ঐতিহাসিক ম্যাচের অন্যতম বড় চমক হলো রেফারি নির্বাচন। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) সদস্য, তাই এএফসি-র পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে ম্যাচটি পরিচালনা করতে হবে এশীয় রেফারিদের। প্রথাগতভাবে ইউরোপীয় লিগে বিদেশি রেফারি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে শুরুতে দ্বিধা থাকলেও, ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান কিংবদন্তি পিয়েরলুইজি কোলিনা এশীয় রেফারিদের 'Technical Standard' বা গুণগত মান নিয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ফলে এসি মিলান ও কোমোর মধ্যকার লড়াইয়ে বাঁশি হাতে দেখা যাবে এশিয়ার সেরা রেফারিদেরই।
কেন এই স্থানান্তর? অলিম্পিক বনাম ফুটবল
১৮৯৮ সালে শুরু হওয়া এই লিগের নাম ১৯২৯ সালে ‘সিরি আ’ হওয়ার পর কখনোই বিদেশের মাটিতে লিগ ম্যাচ আয়োজনের প্রয়োজন পড়েনি। তবে ২০২৬ সালের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মিলানের ঐতিহ্যবাহী সান সিরো স্টেডিয়ামে বসবে শীতকালীন অলিম্পিকের (Winter Olympics) জমকালো উদ্বোধনী আসর। অলিম্পিক আয়োজনের ব্যস্ততা ও নিরাপত্তার খাতিরে সেই সময়ে সান সিরোয় ম্যাচ আয়োজন অসম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত এই ‘Schedule Conflict’ এড়াতেই এবং বৈশ্বিক বাজারে সিরি আ-র 'Market Value' বাড়ানোর কৌশল হিসেবে পার্থকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিপণন ও গ্লোবাল এক্সপ্যানশন
সিরি আ প্রধান সিমোনেলি জানিয়েছেন, ভেন্যু এবং রেফারি চূড়ান্ত হলেও বিপণন ও সম্প্রচার স্বত্বসহ কিছু বাণিজ্যিক বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। তবে গ্লোবাল ফুটবল মার্কেটে সিরি আ-র ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করতে এই 'Global Outreach' প্রোগ্রাম অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিলান-কোমো ম্যাচটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।