বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এবং রহস্যময়ী নারী চরিত্র বোধহয় ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের সেই কালজয়ী সৃষ্টির নির্যাস এবার উঠে আসছে রূপালি পর্দায়। দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করছেন ‘আয়নাবাজি’ খ্যাত অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। নতুন বছরে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে আসতে যাচ্ছে সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’।
প্রার্থিত চরিত্র পেতে নাবিলার আপসহীন অবস্থান
এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র অর্থাৎ ‘বনলতা সেন’ হিসেবে নাবিলাকে পাওয়া ছিল এক চমকপ্রদ ঘটনা। সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন চলাকালীন পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নাবিলাকে অন্য একটি চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নাবিলার লক্ষ্য ছিল স্থির। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অভিনয় করলে তিনি নাম ভূমিকায় অর্থাৎ ‘বনলতা সেন’ চরিত্রটিই করবেন। চরিত্রের প্রতি এই গভীর আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস দেখে শেষ পর্যন্ত নির্মাতাও নাবিলাকেই চূড়ান্ত করেন। একজন অভিনয়শিল্পীর এই নিবেদন সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্মাণে দীর্ঘ সময় ও শৈল্পিক দায়বদ্ধতা
২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদান (Government Grant) পাওয়া এই সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছিল বেশ আগেই। দীর্ঘ সময় নিয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে সিনেমাটির কাজ সম্পন্ন করেছেন পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। আধুনিক বাংলা কবিতার ধ্রুপদী এই চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, “জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য নিয়ে কাজ করা মানেই এক ধরণের শৈল্পিক দায়বদ্ধতা। এখানে প্রতিটি ফ্রেম, প্রতিটি সংলাপ এবং কস্টিউম ডিজাইনে আমাদের গভীর গবেষণা করতে হয়েছে। মানের প্রশ্নে আমরা কোনো ধরনের আপস (Compromise) করিনি। উপযুক্ত কাস্টিং এবং নিখুঁত সিনেমাটোগ্রাফির সমন্বয়ে আমরা একটি সার্থক সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স তৈরি করার চেষ্টা করেছি।”
কাস্টিং চমক ও প্রেক্ষাপট
‘বনলতা সেন’ সিনেমায় কবিতার সেই কালজয়ী কবির ছায়া অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের প্রতিভাবান অভিনেতা খায়রুল বাসার। নাবিলা ও খায়রুল বাসারের এই নতুন জুটি পর্দায় কেমন রসায়ন তৈরি করে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
সিনেমাটিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ ও সুমাইয়া খুশি। বড় বাজেটের এই প্রোডাকশনে প্রতিটি চরিত্রকেই ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মুক্তির মাহেন্দ্রক্ষণ: ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘বনলতা সেন’। বর্তমানে সিনেমাটির কালার গ্রেডিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। নির্মাতাদের লক্ষ্য, একটি মানসম্পন্ন কমার্শিয়াল আর্ট ফিল্ম হিসেবে এটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া। জীবনানন্দের বিমূর্ত বনলতা সেন এবার নাবিলার অবয়বে কতটা সার্থকতা পায়, তা দেখার জন্য এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।