নতুন দলে আশ্রয় ও কৃতজ্ঞতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জামায়াত তাঁকে আশ্রয় না দিত, তবে হয়তো এই বয়সে তাঁকে রাস্তায় পড়ে থাকতে হতো। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এই বয়সে নতুন করে ঘর বা দল গড়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ঘরে চাল নেই, চুলা নেই; আমি কীভাবে নতুন ঘর বানাব। এই বয়সে কেউ আমাকে আশ্রয় দেবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
বিএনপি ছাড়ার কারণ ও সাবেক সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া মেজর আখতারুজ্জামান অভিযোগ করেন যে তিনি নিজে দল ছেড়ে আসেননি, বরং তাঁর সাবেক দল বিএনপি তাঁকে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “গত তিন বছর আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি, এমনকি বিয়ের দাওয়াতও দেননি।” তিনি আরও বলেন, এখন হঠাৎ করে তাঁর দাম বেড়ে গেছে এবং বিএনপির অনেক বন্ধু ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখি করছেন। এতে তিনি শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, “তারা এখন বুঝতে পারছেন, আমি তাদের ঘরের একটি মোটা খুঁটি ছিলাম।” গালাগালি করা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আজ আমাকে গালাগালি করছেন, এতেও ভালো লাগে, কারণ বুঝি আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবছেন।”
জামায়াতের প্রতি আনুগত্য ও দৃঢ় সংকল্প জামায়াতে ইসলামীর প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা জানিয়ে রঞ্জন বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী কষ্ট পায়— এমন কথা তিনি কখনো বলবেন না। প্রয়োজনে নিজের জিহ্বা কেটে ফেলবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি দলটির ভালো-মন্দের সঙ্গেই থাকবেন এবং জামায়াত তাদের রাজনীতি করবে, এগিয়ে যাবে।
শোকসভা ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজ মাঠে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির শোকসভায় এসব কথা বলেন মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এ সময় তিনি ওসমান হাদি হত্যার বিচারও দাবি করেন। সভায় কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল, উপজেলা আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।