• দেশজুড়ে
  • ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব মালিকরা: রাঙ্গামাটিতে মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল ৩ বাস ও ৪ দোকান

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব মালিকরা: রাঙ্গামাটিতে মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল ৩ বাস ও ৪ দোকান

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব মালিকরা: রাঙ্গামাটিতে মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল ৩ বাস ও ৪ দোকান

পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় ভোররাতের লেলিহান শিখায় ছাই ৩টি যাত্রীবাহী বাস; নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।

শীতের রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রাঙ্গামাটির পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা। অসতর্কতাবশত জ্বালানো একটি মশার কয়েল থেকে সৃষ্ট আগুনে তিনটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত বিস্তার

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও দমকল বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুরাতন বাসস্টেশন সংলগ্ন খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাস কাউন্টারের পাশে থাকা একটি Furniture Shop (আসবাবপত্রের দোকান) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং কাউন্টারের সামনে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোতেও আগুন ধরে যায়।

ভস্মীভূত যানবাহান ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

ভোররাতের এই অগ্নিকাণ্ডে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান রুটে চলাচলকারী তিনটি Passenger Bus পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। এছাড়া একটি ফার্নিচারের দোকানসহ মোট চারটি দোকান এবং একটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, সকালে ট্রিপে যাওয়ার জন্য বাসগুলো কাউন্টারের সামনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এক রাতেই তাদের সারাজীবনের উপার্জিত সম্পদ ও আয়ের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে গেল। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে নগদ টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্রসহ কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. মুর্শিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে তারা অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার বিরতিহীন চেষ্টার পর ভোর ছয়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।

নেপথ্যে মশার কয়েল: তদন্তের মুখে কারণ

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মুর্শিদুল ইসলাম জানান, পুড়ে যাওয়া একটি দোকানের কর্মচারী রাতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে এটি কোনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট (Short Circuit) নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে ছড়িয়েছে, তা বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমে মশার কয়েল বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

Tags: fire service road accident fire safety district news rangamati fire bus station mosquito coil passenger bus financial loss furniture shop