ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সে যে দেশের বাইরে চলে গেছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাইনি। অনেক সময় অপরাধীরা তাদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে।”
তিনি আরও জানান, ফয়সালের শেষ অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে পুলিশ বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তিনি বলেন, “সফলতা-ব্যর্থতা আপনারা বলতে পারবেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের প্রত্যেকটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্গান, আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিএমপি, ডিবি, বিজিবি—সবাই কাজ করছে।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও নজরদারি রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, তদন্তকারী সংস্থাই এ বিষয়ে ক্লিয়ার কোনো অবস্থানে আসতে পারবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়গুলো জানানো সম্ভব হবে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বুলেটগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে অস্ত্র মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, জনদাবি বা 'পাবলিকের রিসেন্টমেন্ট'-কে পুলিশ সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। এই ঘটনায় যাদের যাদের নাম আসছে, তাদের অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে হয়নি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সব এজেন্সি সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং ঘটনার সম্ভাব্য সব দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের জরুরি সংবাদ সম্মেলন এদিকে, আগামী দিনের কর্মসূচি ও দাবি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে 'ইনকিলাব মঞ্চ'। তাদের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টায় শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের দশ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ঘোষিত ২ দফা দাবির মধ্যে ১ দফাও মানা হয়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দেননি। এছাড়া, সিভিল-মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে 'হাসিনার চরদের' গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তারা মনে করেন, অতিরিক্ত আইজিপিকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনাকে তুচ্ছ ও অগুরুত্বপূর্ণ দেখানো হয়েছে।