বিশাল সংখ্যক পরিবারের প্রত্যাবর্তন
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) এর দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সাল ছিল সিরিয়ার বাস্তুচ্যুতদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বছর। বছরজুড়ে মোট ৩ হাজার ১২৮টি পরিবার, যা প্রায় ৮ হাজার ৯১৯ জন মানুষের সমান, তারা সংঘবদ্ধভাবে শরণার্থী শিবিরগুলো ত্যাগ করেছে।
ফিরে যাওয়া অঞ্চলসমূহ ও মাসিক পরিসংখ্যান
ফিরে যাওয়া এসব মানুষ মূলত সিরিয়ার দেইর আজ-জোর, আলেপ্পো ও হোমস প্রদেশের বাসিন্দা। এদের মধ্যে যেমন সিরীয় নাগরিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইরাকি নাগরিকরাও। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৮০টি পরিবার শরণার্থী শিবির ত্যাগ করে তাদের পুরনো ঠিকানায় ফিরে গেছে। এপ্রিল মাসে এই প্রত্যাবর্তনের হার ছিল সর্বোচ্চ, যেখানে ৬০৮টি পরিবার শিবির ছাড়ে। অন্যদিকে, জুনে এই সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম, মাত্র ১৫৫টি পরিবার।
প্রত্যাবর্তন কার্যক্রমে নিরাপত্তা জোরদার
এসওএইচআর আরও জানিয়েছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম চলাকালীন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী 'আসায়েশ' এবং নারী সুরক্ষা ইউনিটগুলো (Women’s Protection Units) এই সময় মোতায়েন ছিল। একই সঙ্গে আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়।
আল-হোল শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি
প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সত্ত্বেও, আল-হোল শিবির এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইএস-সংশ্লিষ্ট বিদেশি পরিবারগুলোর আবাসস্থল হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৮৭১টি পরিবারে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ বসবাস করছে। এই শিবির সিরিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতির গভীরতা ও দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে।