৯৮১টি বল, অর্থাৎ প্রায় ১৬৩.৩ ওভারের এক অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের সেই স্মৃতি আজও ক্রিকেট ভক্তদের মনে তরতাজা, যেখানে ৫৩১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যারাথন ব্যাটিং করে ম্যাচ ড্র করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশেষ করে জাস্টিন গ্রিভস এবং কেমার রোচের সেই চোয়ালবদ্ধ লড়াই কিউই বোলারদের ধৈর্য পরীক্ষা নিয়েছিল। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ৪৬২ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে আবারও একই সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিল ক্যারিবীয়রা। তবে এবার আর রূপকথা লেখা হলো না; নিউজিল্যান্ডের পেস এবং স্পিন আক্রমণের যৌথ তাণ্ডবে ধুলিসাৎ হয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ।
রানপাহাড়ে চাপা পড়ল ক্যারিবীয় ব্যাটিং
বে ওভালের ব্যাটিং স্বর্গে পঞ্চম দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। বিনা উইকেটে ৪৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল এবং ব্রান্ডন কিং ভিন্ন দুই কৌশলে এগোচ্ছিলেন। ব্রান্ডন কিং যখন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন, ক্যাম্পবেল তখন অন্য প্রান্তে রীতিমতো দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ১০৬ বল খেলে মাত্র ১০ রান করা ক্যাম্পবেলের মন্থর ব্যাটিংই বলে দিচ্ছিল, তারা ম্যাচটি ড্র করার লক্ষ্যেই খেলছে। তবে দলীয় ৮৭ রানে কিংয়ের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ইনিংস। একই ওভারে এজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ক্যাম্পবেল সাজঘরে ফিরলে বিপদের শুরু হয় সফরকারীদের।
ডাফি-এজাজ জুটির বিষাক্ত স্পেল
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান কাভেম হজ এবার রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে শাই হোপ লড়াকু মানসিকতা দেখালেও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই। অ্যালিক আথানাজ, জাস্টিন গ্রিভস কিংবা রোস্টন চেজ—সবাই কিউই বোলারদের সামনে আত্মসমর্পণ করেন। বিশেষ করে কিউই পেসার জ্যাকব ডাফি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। একাই ৫ উইকেট শিকার করে ক্যারিবীয় টপ ও মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন স্পিনার এজাজ প্যাটেল, যার ঝুলিতে যায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকার চেষ্টা করা শাই হোপ শেষ পর্যন্ত ৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ আশাটুকুও নিভে যায়।
রেকর্ড জয় ও ব্যক্তিগত মাইলফলক
নিউজিল্যান্ডের এই ৩২৩ রানের জয়টি রানের হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম টেস্ট জয়। এর আগে ২০০৪ সালে ২০৪ রানের জয়টি ছিল তাদের সেরা সাফল্য। এই দাপুটে জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল কিউইরা। সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতেছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
ম্যাচ জুড়ে অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচসেরার (Player of the Match) পুরস্কার জিতেছেন ডেভন কনওয়ে, যিনি দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে দলের বিশাল সংগ্রহ নিশ্চিত করেছিলেন। অন্যদিকে, পুরো সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের সুবাদে সিরিজসেরার (Player of the Series) খেতাব জেতেন জ্যাকব ডাফি।
এই সিরিজ জয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিউজিল্যান্ডকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এই হার দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে তাদের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।