দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও শেষকৃত্য
সাবেক এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ধানমন্ডির বাসায় থাকাকালীন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সুকুমার রঞ্জনের স্ত্রী আভা রাণী ঘোষ জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বরদেশ্বরী কালী মন্দিরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন ও পরিচিতি
মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ একজন আলোচিত ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের মূল্যায়নের কারণে তাঁর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (কুল প্রতীক) এবং সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে (ধানের শীষ প্রতীক) পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা সেসময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া ও অন্যান্য ব্যবসা
২০১৭ সালের ২৮ মার্চ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা সদরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঝুমুর সিনেমা হলের সামনে একটি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাকে আর রাজনীতিতে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তিনি নিজের মালিকানায় সিনেমা হল ও ফিল্ম হাউস পরিচালনার পাশাপাশি একটি ওষুধ কোম্পানিরও মালিক ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।