জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’সহ দুটি প্রধান সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে সাম্প্রতিক ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (Law Enforcement Agencies)। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সবাইকে চমকে দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের স্বীকারোক্তি। লুট করা টাকা দিয়ে বিলাসপণ্য কিনে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন মো. নাইম নামের এক ব্যক্তি।
লুটের টাকা ও বিলাসিতা: নাইমের স্বীকারোক্তি
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং (Press Wing) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে আটক করা হয়েছে। নাইম মূলত ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে, গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার সময় তিনি সুযোগ বুঝে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, চুরির বা লুটের টাকা নিরাপদ রাখার বদলে নাইম সেই টাকা দিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি আধুনিক টেলিভিশন ও একটি রেফ্রিজারেটর (Fridge) ক্রয় করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে লুটের ৫০ হাজার নগদ টাকা এবং সদ্য কেনা টিভি ও ফ্রিজটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বিক্ষোভের নামে সংহতি প্রকাশের আড়ালে একদল দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে লুটতরাজ চালিয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বড় শনাক্তকরণ অভিযান
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছে যে, হামলার সময়কার সিসিটিভি (CCTV) ও ভিডিও ফুটেজ (Video Footage) অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও এআই (AI) ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহারের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শুধু ঢাকাতেই নয়, চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সেখানে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে যারা সরাসরি হাঙ্গামায় জড়িত ছিলেন।
সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত
গণমাধ্যমের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলাকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অন্যদেরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হামলার পেছনে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক চক্রান্ত বা উস্কানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাইমের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও লুটের মালামাল উদ্ধার প্রমাণ করে যে, এই হামলার উদ্দেশ্য কেবল আদর্শিক বিরোধিতা ছিল না, বরং এর পেছনে অপরাধমূলক প্রবণতাও কাজ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর অবস্থানকে নাগরিক সমাজ স্বাগত জানালেও, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।