বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্ব। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে এক মিনিট নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিসিবির এই উদ্যোগকে ক্রীড়াঙ্গনের সংহতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বড় পরিবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যু
বিপিএলের এবারের আসরটি সিলেটে শুরু হতে যাচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, ২৪ ডিসেম্বর বড় পরিসরে একটি 'Opening Ceremony' বা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল বিসিবির। কিন্তু বর্তমান ‘Challenging’ পরিস্থিতি এবং ‘Security’ সংশ্লিষ্ট কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে বোর্ড।
বিপিএল সদস্য সচিব মিঠু জানান, “আপনারা জানেন পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা সংবেদনশীল। আমাদের প্রতিটি ঘণ্টায় পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে। ২৪ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান বাতিল করলেও ২৬ তারিখ উদ্বোধনী ম্যাচের দিন ছোট করে একটি আয়োজন রাখা হবে। যেহেতু জানুয়ারির শেষেই বাংলাদেশ জাতীয় দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) খেলতে দেশ ছাড়বে, তাই আমাদের সূচি বা ‘Schedule’ পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।”
উদ্বোধনী দিনের পরিবর্তিত সূচি
উদ্বোধনী দিনটি শুক্রবার হওয়ায় এবং জুম্মার নামাজের কারণে সময়সূচিতে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে জুম্মার নামাজের পর ৩টা থেকে মূল ম্যাচ শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বে বোর্ড সভাপতি এবং ক্রীড়া সচিব খেলোয়াড়দের সঙ্গে ‘Handshake’ করবেন এবং এর পরপরই শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। দুই ম্যাচের মধ্যবর্তী সময়ে দর্শকদের বিনোদনের জন্য স্বল্প পরিসরে একটি গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। দলগুলোর ‘Warm-up’ বা প্রস্তুতি যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে বিসিবি।
শহীদ হাদির বিদায়ে শোকের ছায়া
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগের সময় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় পেছন থেকে মোটরবাইকে আসা আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে দেশীয় হাসপাতালে এবং পরে সরকারি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। হাদির এই অকাল প্রয়াণ সারা দেশে গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলের মাঠেও।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল মনে করছে, হাদির মতো একজন উদীয়মান ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা এক নৈতিক দায়বদ্ধতা। ক্রিকেট ভক্তরা এখন ২৬ ডিসেম্বরের সেই আবেগঘন মুহূর্ত এবং ব্যাটে-বলের লড়াই দেখার অপেক্ষায়।