নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত ‘Gunman’ বা সশস্ত্র দেহরক্ষীর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০১৯ সালের এই দিনে ডাকসু ভবনে নুরের ওপর হওয়া নারকীয় হামলার ছয় বছরপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বনাম রাষ্ট্রীয় সংস্কার
সরকারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, "একজন ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে গোটা দেশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আজ বেশি জরুরি।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সামগ্রিক ‘Law and Order’ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আমূল ঢেলে সাজাতে হবে। কেবল রাজনৈতিক নেতাদের বা নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২৯ আগস্টের হামলার বিচার ও ‘মৌন সমর্থন’ প্রসঙ্গে
নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে গত ২৯ আগস্ট নিজের ওপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেদিন খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরিহিত সদস্যদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ের সামনে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ৪ সেপ্টেম্বর একটি ‘Judicial Committee’ বা বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
নুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি এবং দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এর থেকে প্রমাণিত হয়, ওই হামলার ঘটনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মৌন সমর্থন রয়েছে।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি সরকারের দেওয়া কোনো বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
নির্বাচন ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নুর বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে এবং সাধারণ ভোটারদের জন্য ‘Safe Voting Environment’ নিশ্চিত না হলে কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবে না।" তিনি মনে করেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান ‘Priority’ হওয়া উচিত।
উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি হুঁশিয়ারি
গানম্যান প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নুর। তিনি বলেন, সরকারি নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার পর যদি তার ওপর কোনো ধরনের হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তবে তার পূর্ণ দায়ভার ‘Advisory Council’ বা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ২০ জন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত গানম্যান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই তালিকায় নুরুল হক নুরের নাম থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।