ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী দানি আলভেস (Dani Alves) আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এবার কোনো আইনি জটিলতা বা আদালতের কাঠগড়ায় নয়, বরং ফুটবলে ফেরার এক অভাবনীয় পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন (ESPN)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পর্তুগালের একটি ফুটবল ক্লাব কিনতে যাচ্ছেন এবং একই সাথে সেই ক্লাবের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মালিকানা ও নতুন ইনিংসের প্রস্তুতি
খবর অনুযায়ী, পর্তুগালের তৃতীয় বিভাগের দল ‘সাও জোয়াও দে ভের’ (São João de Ver) কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন ৪২ বছর বয়সী আলভেস। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির 'Majority Shareholder' বা সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হতে যাচ্ছেন। তবে শুধু পর্দার আড়ালে থেকে ক্লাব পরিচালনা নয়, আলভেসের লক্ষ্য আবারও ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামা। ক্লাবের নতুন মালিক হিসেবে তিনি নিজের সঙ্গেই ছয় মাসের একটি খেলোয়াড়ি চুক্তি করতে চান, যাতে চলতি মৌসুমের বাকি অংশে দলের হয়ে মাঠ মাতাতে পারেন। বর্তমানে পর্তুগিজ লিগে তার সম্ভাব্য এই ক্লাবটি নবম স্থানে অবস্থান করছে।
অন্ধকার অধ্যায় কাটিয়ে আলোর পথে
ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় এসে এক চরম সংকটের মুখে পড়েছিলেন আলভেস। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি নাইট ক্লাবে এক নারীকে ‘Sexual Assault’ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের আদালত তাকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিলেও আইনি লড়াই চালিয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে মামলার তথ্যে ‘অসঙ্গতি’ ও ‘বৈপরীত্য’ খুঁজে পাওয়ায় এ বছরের মার্চে কাতালুনিয়া অঞ্চলের ‘High Court’ তার সাজা বাতিল করে এবং তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই অন্ধকার সময়টি তার পেশাদার ক্যারিয়ারকে স্থবির করে দিয়েছিল।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল তারকা
২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে আলভেসকে আর পেশাদার ফুটবলে দেখা যায়নি। তবে তার ফুটবলীয় অর্জন আকাশছোঁয়া। বার্সেলোনা, জুভেন্টাস এবং পিএসজি-র (PSG) মতো বিশ্বের প্রথম সারির ক্লাবগুলোতে খেলে তিনি অগণিত ট্রফি জিতেছেন। বিশেষ করে বার্সেলোনার স্বর্ণযুগের অন্যতম সারথি ছিলেন তিনি। ৪২ বছর বয়সে এসে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার এই সিদ্ধান্ত ফুটবল মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে আলভেস
সাধারণত ফুটবলাররা অবসরের পর কোচিং বা ক্লাব ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হন। কিন্তু আলভেস একই সাথে ক্লাবের মালিক এবং খেলোয়াড় হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালনের যে ঝুঁকি নিচ্ছেন, তা আধুনিক ফুটবলে বিরল। সমালোচকরা বিষয়টিকে তার ‘Image Reconstruction’ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে দেখলেও, ভক্তরা আবারও এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ড্রিবলিং আর নিখুঁত ক্রস দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। সাও জোয়াও দে ভের-এর ভাগ্য এই ‘Tech-savvy’ ফুটবলারের হাত ধরে কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।