• দেশজুড়ে
  • পটুয়াখালীতে কুকুরছানা পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

পটুয়াখালীতে কুকুরছানা পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

মুরগির বাচ্চা খাওয়ার 'অপরাধে' পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক নারী দুটি কুকুরছানাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পটুয়াখালীতে কুকুরছানা পিটিয়ে হত্যা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি ইউনিয়নের মম্বিপাড়া এলাকায় দুটি কুকুরছানা পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুরগির বাচ্চা খেয়ে ফেলার 'অপরাধে' এক নারী লাঠি দিয়ে আঘাত করে কুকুরছানা দুটিকে হত্যা করেন। এ সময় আরও দুটি কুকুরছানা গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঘটে। প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও প্রাণীপ্রেমী সংগঠনগুলো।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি ইউনিয়নের মম্বিপাড়া (সাধুর ব্রিজ) এলাকায় অমানবিক এক ঘটনা ঘটেছে। সোনিয়া নামে এক নারী দুটি কুকুরছানাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এ সময় আরও দুটি কুকুরছানা গুরুতর আহত হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

ঘটনার বিস্তারিত ও অভিযুক্তের বক্তব্য স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুকুরছানাগুলো একটি বাড়ির মুরগির বাচ্চা খেয়ে ফেলেছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোনিয়া (আলমগীরের মেয়ে), যিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা, তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করে কুকুরছানা দুটিকে মেরে ফেলেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত সোনিয়া বেগম তাঁর কৃতকর্মের সাফাই গেয়ে বলেন, “আমার দুটি মুরগির বাচ্চা খেয়ে ফেলায় আমি রাগ করে ওদের মেরে ফেলেছি। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া এলাকাবাসী এমন নিষ্ঠুরতা মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা ফাতিমা বলেন, “নিরীহ প্রাণীর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।” আরেক বাসিন্দা সত্তার হাওলাদার বলেন, “মুরগি খাওয়ার অপরাধে কুকুরছানা মেরে ফেলা অমানবিক কাজ। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।” প্রাণীপ্রেমী সংগঠন 'অ্যানিমেল লাভারস'-এর সদস্য কেএম বাচ্চু বলেন, “এভাবে প্রাণীর ওপর বর্বরতা সমাজে এক ভয়ংকর বার্তা দেয়। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

প্রশাসনের আশ্বাস ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হামিদ এটিকে 'অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা' আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহব্বত খানও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বর্বরতা সমাজে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tags: law enforcement animal cruelty patuakhali kalapara puppy murder local protest