• আন্তর্জাতিক
  • পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ এশিয়া: ভারত-পাকিস্তান ৪ দিনের সংঘাতের নেপথ্যে কী ছিল?

পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ এশিয়া: ভারত-পাকিস্তান ৪ দিনের সংঘাতের নেপথ্যে কী ছিল?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ এশিয়া: ভারত-পাকিস্তান ৪ দিনের সংঘাতের নেপথ্যে কী ছিল?

অপারেশন সিন্দুর বনাম অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস; পহেলগাম থেকে সীমান্ত সংঘাত—চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর সর্বসাম্প্রতিক যুদ্ধের বিস্তারিত চালচিত্র।

চলতি বছর বিশ্ব রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অধ্যায় ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী যুদ্ধ। মাত্র চারদিন স্থায়ী হওয়া এই সংঘাত কেবল এশিয়াজুড়ে উত্তেজনাই ছড়ায়নি, বরং কয়েক দশকের মধ্যে দেশ দুটির সামরিক সম্পর্কের সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছে। আকাশপথের লড়াই থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক Missile এবং Drone-এর ব্যবহার—এই যুদ্ধ ছিল প্রথাগত সংঘাতের সীমানা ছাড়িয়ে এক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর রণকৌশলের প্রদর্শনী।

সংঘাতের সূত্রপাত: পহেলগাম ট্র্যাজেডি ও কূটনৈতিক টানাপড়েন

এই অস্থিরতার বীজ বপন হয়েছিল গত ২২ এপ্রিল। ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাম এলাকায় এক ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। ভারত সরকার এই ঘটনার জন্য সরাসরি পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনকে দায়ী করে এবং ইসলামাবাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। যদিও পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায়, তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার, ভিসা সার্ভিস বন্ধ এবং ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ (Indus Water Treaty) স্থগিত করার ঘোষণা দেয় দিল্লি। জবাবে ইসলামাবাদও সিমলা চুক্তি স্থগিতসহ আকাশসীমা ও বাণিজ্য বন্ধের মতো কঠোর অবস্থান নেয়। ২৪ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সীমান্তে বিক্ষিপ্ত গোলাবর্ষণ পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

‘অপারেশন সিন্দুর’: ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

৭ মে ভোররাতে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ‘Counter-terrorism’ অভিযান। পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ৯টি শহরের ২৪টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। মূলত জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বার মতো গোষ্ঠীগুলোর সদর দফতর ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।

জইশ প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে, বাহাওয়ালপুরের সদর দফতরে ভারতীয় হামলায় তার পরিবারের সদস্যসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের এই অভিযানে সাধারণ বেসামরিক এলাকা এবং মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’: পাকিস্তানের পাল্টা আঘাত

ভারতের আক্রমণের জবাবে ১০ মে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’। এই পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘Drone War’। পাকিস্তানি ড্রোন ও গোলন্দাজ বাহিনী ভারতের পুঞ্চ সেক্টরসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ভারতের অন্তত ৫ থেকে ৭টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং ২০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হেনেছে।

বিশেষ করে উধমপুর ও শ্রীনগর বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। পাকিস্তানের দাবি, তারা ভারতের অত্যাধুনিক S-400 Air Defense System-ও ধ্বংস করেছে। তবে ভারত সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান জনসমক্ষে প্রকাশ না করলেও ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহতের কথা স্বীকার করেছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি

যুদ্ধ যখন একটি অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক সংঘাতের রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়, তখন বিশ্ব সম্প্রদায় নড়েচড়ে বসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় (Diplomatic Intervention) ১০ মে বিকেল ৫টা থেকে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পাকিস্তান এই দিনটিকে ‘ন্যায্য যুদ্ধের দিন’ হিসেবে অভিহিত করলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া হিসেবেই দেখছেন।

ভবিষ্যৎ শঙ্কা ও ভূ-রাজনীতি

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আস্থার সংকট দূর হয়নি। উভয় দেশের সীমান্তে এখনও উচ্চ সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। দিল্লি ও ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক বিক্ষিপ্ত বিস্ফোরণগুলো আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (Geopolitical Stability) এখনও অত্যন্ত নাজুক। পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার এই ‘ছায়া যুদ্ধ’ বা প্রযুক্তিনির্ভর লড়াই আগামী দিনে বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags: drone warfare missile strike india pakistan war operation sindhur south asia tension geopolitical conflict s400 system ceasefire news kashmir conflict international diplomacy