• আন্তর্জাতিক
  • সিরিয়ায় নতুন সেনাদল গঠন নিয়ে টানাপড়েন: আলোচনার মাঝেই সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের ভয়াবহ সংঘাত

সিরিয়ায় নতুন সেনাদল গঠন নিয়ে টানাপড়েন: আলোচনার মাঝেই সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের ভয়াবহ সংঘাত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
সিরিয়ায় নতুন সেনাদল গঠন নিয়ে টানাপড়েন: আলোচনার মাঝেই সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের ভয়াবহ সংঘাত

আলেপ্পোতে দুই বাহিনীর গোলাগুলিতে প্রাণ হারালেন বেসামরিক নাগরিক; এসডিএফকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা।

সিরিয়ার আকাশে বারুদের গন্ধ যেন কাটছেই না। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার মাঝেই আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক শহর আলেপ্পো। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সিরিয়ার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (SDF)-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কেঁপে উঠেছে গোটা অঞ্চল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন দামেস্কে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের ‘Diplomatic’ বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

আলেপ্পোর রাস্তায় কামানের গর্জন ও সাধারণের হাহাকার

স্থানীয় সূত্র ও সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা (SANA)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে আলেপ্পো শহরের শেখান ও লাইরমুন গোলচত্বর এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে হঠাৎ করেই গুলি বিনিময় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দুই জন বেসামরিক নাগরিক। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর আতঙ্কে কয়েকশ পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকায় যৌথ চেকপোস্টে মোতায়েন থাকা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রথমে অতর্কিত হামলা চালায় এসডিএফ যোদ্ধারা। তবে কুর্দি পক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক টেবিল বনাম রণক্ষেত্র: কেন এই সংঘাত?

এই সংঘর্ষটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দামেস্কে সিরীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত। আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল এসডিএফ বাহিনীকে কীভাবে সিরিয়ার নতুন ‘National Army’ বা জাতীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করা যায়।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসডিএফের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক একীভূতকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই চুক্তির বাস্তবায়ন বা ‘Implementation’ প্রক্রিয়াটি থমকে আছে মূলত কৌশলগত কিছু মতপার্থক্যের কারণে।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় বড় বাধা: তুরস্ক ও কুর্দি অবস্থান

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি বা ‘Geopolitics’-এর বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের মূলে রয়েছে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ধরণ নিয়ে বিরোধ। তুরস্ক এবং সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে, এসডিএফ বাহিনীকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে তাদের যোদ্ধাদের ব্যক্তিগত বা স্বতন্ত্রভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ চাইছে তারা একটি স্বতন্ত্র ‘Unit’ বা একক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে, যাতে তাদের কমান্ড স্ট্রাকচার বজায় থাকে।

এই মৌলিক মতপার্থক্যই এখন সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় ‘Security Risk’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার টেবিলের সমঝোতা যখন মাঠপর্যায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে না, তখন এই ধরনের সংঘর্ষ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোমবারের এই সংঘর্ষ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি এসডিএফের পক্ষ থেকে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা হতে পারে। তারা হয়তো বোঝাতে চাইছে যে, তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হলে সিরিয়ার নতুন সেনাবাহিনী গঠন বা ‘Nation Building’ প্রক্রিয়া মসৃণ হবে না। শেষ পর্যন্ত তুরস্কের মধ্যস্থতা এবং দামেস্কের অনমনীয় অবস্থান সিরিয়াকে আবারও কোনো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Tags: hakan fidan middle east news syria conflict aleppo clash sdf syria national army syria geopolitics kurdish forces integration process security risk