ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের বাম হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত মেনিসকাসে (Meniscus) সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সান্তোস ক্লাব কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসেও চোটের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে এবারের চোটটি কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে—সান্তোসকে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ থেকে রেলিগেশন (Relegation) বা অবনমন থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের শরীরকে নিংড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
পুরোনো চিকিৎসকের অধীনে নতুন যাত্রা
ব্রাজিল জাতীয় দলের অভিজ্ঞ চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের তত্ত্বাবধানে নেইমারের এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, লাসমার নেইমারের পূর্বপরিচিত এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত; এর আগেও এই তারকার পায়ের লিগামেন্টে (Ligament) জটিল অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এসিএল (ACL) ইনজুরিতে পড়ার পর দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল নেইমারকে। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের মেনিসকাসের সমস্যায় পড়লেন তিনি।
সান্তোসের ত্রাতা ও দ্রুত পুনর্বাসন
সান্তোসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নেইমারকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ (Release) দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ছাড়ার পরপরই তিনি তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বা রিহ্যাবিলিটেশন (Rehabilitation) শুরু করেছেন। ক্লাবের কঠিন সময়ে ইনজুরি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। তার লড়াকু পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই সান্তোস লিগের তলানি থেকে উঠে এসে রেলিগেশন এড়াতে সক্ষম হয়।
কবে নাগাদ ফিরছেন মাঠে?
নেইমারের মাঠে ফেরা নিয়ে ভক্তদের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো দিনক্ষণ না জানালেও ব্রাজিলিয়ান প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো এসপোর্তে’ আশার বাণী শুনিয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক মাস থাকবে নেইমারের রিকভারি (Recovery) পিরিয়ড। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ফের সবুজ গালিচায় দৌড়াতে দেখা যেতে পারে এই তারকাকে।
চুক্তি ও ২০২৬ বিশ্বকাপের লক্ষ্য
মাঠের ফেরার লড়াইয়ের পাশাপাশি নেইমারের সামনে রয়েছে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা। এই বছরের শেষেই সান্তোসের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন চুক্তির বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নেইমার তার শেষ গন্তব্য হিসেবে আবারও ইউরোপের কোনো ক্লাব বা নতুন কোনো বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আছেন।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা না গেলেও নেইমারের চোখ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে। কার্লো আনচেলত্তির সম্ভাব্য অধীনে (Source Context) সেলেসাওদের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া তিনি। ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৯ গোলের মালিক নেইমার কি পারবেন ইনজুরি কাটিয়ে আবারও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করতে? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, তার সফল অস্ত্রোপচার ভক্তদের মনে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে।