• রাজনীতি
  • নির্বাসন ও সংগ্রামের দেড় যুগ পেরিয়ে বীরের বেশে স্বদেশে: কাল ফিরছেন তারেক রহমান

নির্বাসন ও সংগ্রামের দেড় যুগ পেরিয়ে বীরের বেশে স্বদেশে: কাল ফিরছেন তারেক রহমান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাসন ও সংগ্রামের দেড় যুগ পেরিয়ে বীরের বেশে স্বদেশে: কাল ফিরছেন তারেক রহমান

লন্ডনের নির্বাসিত জীবন থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্য নায়ক— দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক মহাকাব্যিক রাজনৈতিক সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনীতিবিদের দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং আবেগঘন অধ্যায়ের চূড়ান্ত পরিণতি।

বেদনাদায়ক প্রবাস ও ১/১১-এর ক্ষত

তারেক রহমানের এই দীর্ঘ প্রবাস জীবনের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছিল ২০০৭ সালের এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান বিএনপির এই কাণ্ডারি। এরপর আর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরা হয়নি তাঁর। দীর্ঘ এই সময়ে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনেই কাটিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংগ্রামের সময়গুলো।

দূর প্রবাস থেকে ডিজিটাল লিডারশিপ

বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনামলে তারেক রহমানের ওপর নেমে এসেছিল একের পর এক মামলার খড়্গ। তাঁর কণ্ঠরোধ করতে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Social Media) তাঁর বক্তব্য প্রচারের ওপর নগ্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তৎকালীন সরকার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এক ‘ডিজিটাল লিডারশিপ’ (Digital Leadership) গড়ে তোলেন তিনি। লন্ডনে থেকেই ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনে সাহস জুগিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পারিবারিক বিয়োগব্যথা ও একাকীত্ব

নির্বাসিত এই জীবনে তারেক রহমানকে সইতে হয়েছে চরম ব্যক্তিগত শোক। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো। দীর্ঘ নির্বাসনে থাকায় ভাইয়ের মৃতদেহটিও শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাননি তিনি। মা বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ এবং অসুস্থতার সময়ও পাশে থাকতে না পারার এক গগনবিদারী হাহাকার ছিল তাঁর ১৭ বছরের এই প্রবাস জীবনে। তবে এই শোককেই তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেছেন দেশের মানুষের ‘ভোটাধিকার’ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও ‘মাস্টারমাইন্ড’ তত্ত্ব

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে তারেক রহমানের কৌশলগত অবস্থান ছিল অত্যন্ত জোরালো। দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন, তা আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকে তাঁকে এই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ (Mastermind) বলে অভিহিত করলেও তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষই এই অভাবনীয় বিজয়ের কারিগর।

রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর রূপরেখা

তারেক রহমান কেবল আন্দোলনের নেতা হিসেবে নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা (State Structure Reform) নিয়েও সোচ্চার থেকেছেন। তিনি ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

অপেক্ষার অবসান: উৎসবের আমেজ দেশজুড়ে

দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের খবরে বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে সাজসাজ রব। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি এখন হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। কালকের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

দেশ গড়ার অদম্য বাসনা আর মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে অবশেষে স্বদেশের আকাশে ডানা মেলছেন তারেক রহমান।

Tags: tarique rahman bnp leader khaleda zia political comeback mass uprising political exile state reform return home democratic movement london life