• আন্তর্জাতিক
  • মার্কিন অবরোধ ও ‘জলদস্যুতা’র পাল্টা জবাব: সমর্থনকারীদের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ভেনেজুয়েলায় কঠোর আইন পাস

মার্কিন অবরোধ ও ‘জলদস্যুতা’র পাল্টা জবাব: সমর্থনকারীদের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ভেনেজুয়েলায় কঠোর আইন পাস

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মার্কিন অবরোধ ও ‘জলদস্যুতা’র পাল্টা জবাব: সমর্থনকারীদের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ভেনেজুয়েলায় কঠোর আইন পাস

ওয়াশিংটনের ‘তেল ট্যাংকার’ জব্দের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ কারাকাস; জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতে প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্রির আদলে বড় পদক্ষেপ মাদুরো সরকারের।

ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে এক অভাবনীয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার। মার্কিন অবরোধ (Economic Sanctions) এবং ‘জলদস্যুতা’র মতো কার্যকলাপে সহায়তা বা অর্থায়নকারী ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস করেছে দেশটির জাতীয় পরিষদ। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট একটি তেল ট্যাংকার (Oil Tanker) মার্কিন প্রশাসন জব্দ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিধ্বংসী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় কঠোর কবজ

মাদুরো নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় পরিষদে আইনটি পেশ করার সময় আইনপ্রণেতা জিউসেপ্পে আলেসান্দ্রেলো বলেন, “এই আইনটি কেবল দণ্ডবিধি নয়, বরং আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার একটি ঢাল। এটি জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হওয়া ঠেকাতে এবং বিদেশি শক্তির এজেন্টদের প্রতিহত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” মূলত যারা মার্কিন অবরোধকে সমর্থন করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এই আইনে।

মার্কিন ‘জলদস্যুতা’ ও সামরিক তৎপরতা

সম্প্রতি ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করছে এবং কথিত মাদক পাচার বিরোধী অভিযানের নামে আন্তর্জাতিক জলসীমায় (International Waters) সামরিক হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। মাদুরো সরকার ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে নগ্ন ‘জলদস্যুতা’ (Piracy) এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের ট্যাংকার আটকের বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে এবং অনেক দেশই একে অবৈধ বলে গণ্য করছে।

জাতিসংঘে সরব ভেনেজুয়েলা: পাশে চীন ও রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি স্যামুয়েল মনকাডা মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) এক জরুরি বৈঠকে মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি অশুভ শক্তির মোকাবিলা করছি যারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করে না। তারা চায় ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা দেশ ছেড়ে চলে যাক এবং আমাদের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হোক।”

এই সংকটে আবারও কারাকাসের পাশে দাঁড়িয়েছে বেইজিং ও মস্কো। চীন এবং রাশিয়া সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, একতরফা অবরোধ ও সামরিক ভয়ভীতি প্রদর্শন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের (Sovereignty) ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক সংঘাত

প্রেসিডেন্ট মাদুরো সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বৈধ সরকারকে উৎখাত করে (Regime Change) দেশটির বিশাল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, জব্দ করা তেলের পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজগুলোও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দখলে রাখবে অথবা বিক্রি করে দেবে। এই ঘোষণাকে আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি দেশের সম্পদ ‘লুণ্ঠন’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভেনেজুয়েলার এই নতুন আইন পাস হওয়ার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনপন্থী অংশটি চরম চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতি, অন্যদিকে দেশের ভেতরে কঠোর শাস্তির আইন—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Tags: international law nicolas maduro us sanctions latin america national assembly oil tanker regime change venezuela law maritime piracy un security council