শাজাহান খানের বাড়ি পাহারার কারণ স্থানীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মাদারীপুরে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খানের বাড়ি ও তাঁর ভাইদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করার আহ্বান জানানো হয়। এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ব্যাপারীর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত কর্মী শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শাজাহান খানের ১০ তলা বাড়িসহ তাঁর ভাইদের মালিকানাধীন চারটি বাড়ি, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং পেট্রোল পাম্প পাহারা দেন।
কেন্দ্রে সমালোচনার ঝড় ও অ্যাকশন ফারুক হোসেন ও তাঁর কর্মীদের এই পাহারা দেওয়ার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত রোববার বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিক ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। নোটিশে তাঁকে ৩ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ব্যাখ্যা শোনার পর মঙ্গলবার রাতে তাঁর সব পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্ত নেতার আত্মপক্ষ সমর্থন এই বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে 'মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য' দিয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন বাসস্ট্যান্ড ও তেলপাম্পের থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে শাজাহান খানের বাড়ি, সেখানে তো আমাদের কোনো লোক যায়নি। পাহারা দিল কীভাবে?” তাঁর পদ স্থগিতের বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন এবং বলেছেন যে নোটিশ অনুযায়ী তিনি পার্টি অফিসে গিয়ে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, স্থগিত আদেশ হয়তো দু-চার দিন থাকতে পারে।
শাজাহান খানের পরিবারের বর্তমান অবস্থা বর্তমানে শাজাহান খান ও তাঁর ছেলে আসিবুর রহমান আসিব খান কারাগারে আছেন। তাঁর ভাইসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য পলাতক থাকলেও মাদারীপুরে তাঁদের পরিবহন, আবাসিক হোটেল, পেট্রোল পাম্পসহ সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য এখনও সচল রয়েছে।