২৫ ডিসেম্বর নির্বাচনের কারণ ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান যে, জনভোগান্তি পরিহারের লক্ষ্যেই সরকারি ছুটির দিন ২৫ ডিসেম্বরকে প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই দিনটির পরপরই আরও দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় মোট তিন দিনের টানা ছুটি থাকবে, যা রাজধানীতে নাগরিক চাপ ও যানজট কমাতে সহায়ক হবে। এই বহুল আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই বর্তমানে বিরাজমান অস্থির পরিস্থিতিতে জনগণের ঐক্য সৃষ্টি এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ফেরা কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
পরিবারসহ দেশে ফেরা ও দিনের কর্মসূচি
তারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান দেশে ফিরছেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। অবতরণের পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে। তারেক রহমানের দিনের প্রধান ও প্রথম অগ্রাধিকার হলো সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় তিনি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। সেখান থেকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেশনেত্রীর পাশে থাকবেন এবং পরে সরাসরি গুলশানে নিজ বাসভবনে যাবেন।
গণঅভ্যর্থনাস্থল হিসেবে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ বেছে নেওয়ার কারণ
ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মতো ঐতিহাসিক স্থান থাকা সত্ত্বেও ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) নির্বাচন করার পেছনে সুস্পষ্ট কৌশলগত ও মানবিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই স্থান নির্বাচনের প্রধান কারণ হলো জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা। তারেক রহমানের নির্দেশনাক্রমে রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে রাজধানীর একপাশে, শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত, ৩০০ ফুট প্রশস্ত এই এক্সপ্রেসওয়ের শুধু এক পাশের সার্ভিস লেনকে সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনাস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো জনসভা বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশনেত্রীসহ দেশের সব মানুষের কল্যাণ কামনায় দোয়ার অনুরোধের একটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি।
জনভোগান্তি কমাতে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগ
জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকাজুড়ে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্যারামেডিক, ওষুধপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়া বক্তব্যস্থলের কাছাকাছি ৬ শয্যার একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল থাকবে, যার সঙ্গে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত থাকবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, মোবাইল টয়লেট স্থাপন ও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। যানজট এড়াতে রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান পয়েন্টগুলোতে আলাদা বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের পাশাপাশি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কাকলী মোড়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এবং আব্দুল্লাহপুরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। এসব ডেস্ক থেকে মোটরবাইক এসকর্টের মাধ্যমে জরুরি যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।