• দেশজুড়ে
  • ৯ মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ও বাড়ছে চোরাচালান

৯ মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ও বাড়ছে চোরাচালান

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তাজনিত কারণে এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ স্থলবন্দর। লোকসানে ৪০ লাখ টাকা প্রতি মাসে, বাড়ছে চোরাচালান, পথে বসার উপক্রম ব্যবসায়ীদের।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
৯ মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ও বাড়ছে চোরাচালান

কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফ স্থলবন্দরে টানা ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা জটিলতার কারণে সৃষ্ট এই অচলাবস্থায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যেখানে প্রতি মাসে বন্দরের লোকসান হচ্ছে ৪০ লাখ টাকা। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক এখন বাধ্য হয়ে চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘ ৯ মাসের অচলাবস্থা ও রাজস্বের চিত্র

২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আয় ছিল ৬৪০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪০৪ কোটি টাকায়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাত্র ৯ মাসে রাজস্ব কমেছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যা এখন মাত্র ১১০ কোটি টাকা। এই বিশাল রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে, কারণ আয় শূন্য হলেও বন্দরের ব্যবস্থাপনা ব্যয় চলমান রয়েছে।

শ্রমিকদের দুরবস্থা ও চোরাচালানে বৃদ্ধি

টেকনাফ স্থলবন্দর স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এর ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ শ্রমিক অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত। পেটে খাবার না থাকায় এবং অন্য কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকায় তাদের অনেকেই চোরাচালানের মতো অবৈধ পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। বাজারের চোরাই পণ্যের আধিক্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

টেকনাফ স্থলবন্দর শ্রমিক সর্দার আবুল হাশিম জানান, “গত নয় মাস থেকে স্থলবন্দর বন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে ও লোকসানের মধ্যে আছি। অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবন-যাপন করছে।” আমদানিকারক ব্যবসায়ী এনামুল হাসানও বলেন, “আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক মানুষ অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছে। পেটে খাবার না থাকলে মানুষ কী করবে।”

ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি ও উদ্বেগের কারণ

আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিংয়ের (সিএন্ডএফ) সভাপতি এহতেশামুল হক বাহদুর বলেন, এক বছর ধরে ব্যবসা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হওয়ার পথে এবং আয় না থাকলেও তাঁদের ব্যাংকের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাঁর তথ্যমতে, প্রায় ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য মিয়ানমারে আটকে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমারে নির্বাচনের পর নতুন সরকার আরকানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারলে হয়তো ব্যবসা পুনরায় চালু হবে।

সমস্যা সমাধানে কাস্টমসের ৬ সুপারিশ

টেকনাফ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে ছয়টি সুপারিশ পেশ করেছে:

১. আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা। ২. সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌথ কমিটি গঠন করে টাস্কফোর্সের কার্যক্রম গতিশীল করা। ৩. স্থানীয় চেম্বার, আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য নীতিগত সহায়তা প্রদান। ৪. বর্ডার ট্রেড চুক্তির আলোকে জনপ্রিয় ও লাভজনক পণ্য অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রণয়ন। ৫. পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে বন্দর চালু করা। ৬. মিডিয়া ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু রাখা।

Tags: smuggling myanmar revenue deficit teknaf land port import export customs border trade