• দেশজুড়ে
  • সাতক্ষীরায় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাই, আহত ২ পুলিশ সদস্য

সাতক্ষীরায় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাই, আহত ২ পুলিশ সদস্য

বেতনা নদীর খননকৃত মাটি লুটের অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় ৩০-৩৫ জনের একটি দল।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সাতক্ষীরায় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাই, আহত ২ পুলিশ সদস্য

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে মাটি লুটের ঘটনায় আটক কিসমত আলীকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার সহযোগী ও স্বজনেরা। এ ঘটনায় ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হামলা ও ছিনতাইয়ের বিস্তারিত ঘটনা

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেন জানান, বেতনা নদীর খননকৃত মাটি নেহালপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট করে আসছিল। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের একজন ঠিকাদার এই মাটি কিনেছেন বলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত তাকে মঙ্গলবার অবহিত করেন। এর ভিত্তিতে এসআই সোহরাব হোসেন মাটি কাটতে বাধা দিলে কিসমত আলী ও তার সহযোগীরা তার ওপর চড়াও হন।

উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি ট্রলিভর্তি মাটিসহ কিসমত আলীকে ধরে ফাঁড়িতে আটক করে রাখেন। ফাঁড়িতে আটক করে মারধর করা হয়েছে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিসমতের ভাই রহমত, স্ত্রী শাহানারা ও ভাস্তে বাবর আলীসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক জোরপূর্বক ফাঁড়ির ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কিসমতকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সহকারী উপপরিদর্শক মাহাবুর রহমান ও সিপাহি মেহেদী হাসান বাধা দেন। এ সময় হামলাকারীরা ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে কিসমত আলীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আসামির পাল্টা দাবি

তবে আটক হওয়ার পর ছিনিয়ে নেওয়া কিসমত হোসেন দাবি করেন, পুলিশের নিষেধ অমান্য করে তিনি বুধবার সকালে বেতনার মাটি কাটছিলেন— এটা সত্য। কিন্তু তাকে ধরে আনার পর আর কখনো মাটি কাটবেন না বলার পরও ফাঁড়ির কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন তাকে মারধর করেছেন।

থানায় মামলা দায়ের

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় কিসমতসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

Tags: bangladesh crime satkhira police fari attack asami chhintai brahmarajpur police assault