• রাজনীতি
  • দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: গুরুত্বপূর্ণ ১০ প্রশ্নের উত্তর জানালেন উপদেষ্টা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: গুরুত্বপূর্ণ ১০ প্রশ্নের উত্তর জানালেন উপদেষ্টা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে তার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: গুরুত্বপূর্ণ ১০ প্রশ্নের উত্তর জানালেন উপদেষ্টা

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তার এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে জেগে ওঠা গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ১০টি জরুরি প্রশ্নোত্তর

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেড় যুগ পর দেশে ফেরা ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণের মনে জেগে ওঠা জরুরি ১০টি প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

১. একই ফ্লাইটে কারা ফিরছেন?

তারেক রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

২. কখন ঢাকা পৌঁছাবেন?

তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। অবতরণের পরপরই নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।

৩. দিনের মূল কর্মসূচি কী?

তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার গুরুতর অসুস্থ মা, বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় তিনি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। এরপর হাসপাতালে গিয়ে দেশনেত্রীর পাশে থেকে সরাসরি গুলশানে নিজ বাসভবনে যাবেন।

৪. ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ে কেন বেছে নেওয়া হলো?

স্থান নির্বাচনের পেছনে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত ও মানবিক সিদ্ধান্ত—জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা। রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও ঐতিহাসিক স্থান যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউ ইচ্ছাকৃতভাবেই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে রাজধানীর একপাশে, শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত, ৩০০ ফুট প্রশস্ত ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’-এর শুধুমাত্র এক পাশের সার্ভিস লেনকে অতি সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনাস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫. এটি কি কোনো সংবর্ধনা বা জনসভা?

না, এটি কোনো জনসভা বা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়। এটি শুধু দেশবাসীর প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশনেত্রীসহ দেশের সকল মানুষের কল্যাণ কামনায় দোয়ার অনুরোধের একটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি। এই আয়োজনে তারেক রহমানই একমাত্র বক্তা থাকবেন।

৬. জনভোগান্তি কমাতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকাজুড়ে ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্যারামেডিক, ওষুধপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। এছাড়াও বক্তব্যস্থলের কাছাকাছি ৬ শয্যার একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল থাকবে, যার সঙ্গে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত থাকবে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

৭. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কী ব্যবস্থা?

যানজট এড়াতে রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান পয়েন্টগুলোতে আলাদা বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরগামী ও বিদেশফেরত যাত্রী, এবং রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কাকলী মোড়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এবং আব্দুল্লাহপুরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। এসব ডেস্ক থেকে মোটরবাইক এসকর্টের মাধ্যমে জরুরি যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার চেষ্টা করা হবে। এই কারণে যেকোনো অনিচ্ছাকৃত সমস্যার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।

৮. ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণ কী?

জনভোগান্তি পরিহারের লক্ষ্যেই তারেক রহমান তার প্রত্যাবর্তনের দিন হিসেবে সরকারি ছুটির দিন ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচন করেছেন। এই দিনের পরপরই আরও দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় মোট তিন দিনের টানা ছুটি থাকবে, যা নাগরিক চাপ ও যানজট কমাতে সহায়ক হবে।

৯. নেতাকর্মীদের জন্য কোনো বিশেষ নির্দেশনা আছে কি?

এই প্রত্যাবর্তন যেন কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা, উত্তেজনা বা নাগরিক দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেই বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ আচরণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে কাঞ্চন ব্রিজ ও ঢাকার প্রবেশমুখগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১০. এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?

বহুলআকাঙ্খিত এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই দেখছেন বিরাজমান অস্থির পরিস্থিতিতে জনগণের ঐক্য সৃষ্টি এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে। এই ফেরা কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

Tags: tarique rahman bnp bangladesh politics khaleda zia mahdi amin swadesh prottaborton