• রাজনীতি
  • রাজসিক প্রত্যাবর্তন: ‘নেতা আসছেন, শীত আবার কিসের!’—তারেক রহমানকে বরণে জনসমুদ্রে আবেগের মহাবিস্ফোরণ

রাজসিক প্রত্যাবর্তন: ‘নেতা আসছেন, শীত আবার কিসের!’—তারেক রহমানকে বরণে জনসমুদ্রে আবেগের মহাবিস্ফোরণ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাজসিক প্রত্যাবর্তন: ‘নেতা আসছেন, শীত আবার কিসের!’—তারেক রহমানকে বরণে জনসমুদ্রে আবেগের মহাবিস্ফোরণ

লন্ডন থেকে ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান; সংবর্ধনা মঞ্চে লাখো মানুষের ঢল, নজর কেড়েছে রিয়াজের ‘খালি গায়ে’ অপেক্ষা।

দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক নির্বাসনের যবনিকা ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ‘Historic Homecoming’ বা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা এখন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে রাজপথে তাঁদের এই অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

শেরপুরের রিয়াজের অনন্য ভালোবাসা: ‘নেতা আসছেন, শীত আবার কিসের!’

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় নির্মিত সুবিশাল সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে বুধবার রাত থেকেই হাজার হাজার মানুষের ভিড়। এই ভিড়ের মধ্যেই এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা করেন শেরপুর থেকে আসা অটোচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। কনকনে শীতের রাতে যখন মানুষ গরম কাপড়ে জবুথবু, তখন রিয়াজ উদ্দিনকে দেখা যায় সম্পূর্ণ খালি গায়ে। শুধু তাই নয়, তাঁর কাঁধে ছিল প্রায় ৫০ কেজি ওজনের একটি ধানের বস্তা।

সারারাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়ে দেওয়া রিয়াজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "প্রিয় নেতাকে দেখব বলে শেরপুর থেকে এসেছি। কাঁধে ধান নিয়ে সারারাত খালি গায়েই কাটিয়ে দিয়েছি। আমার কোনো শীত লাগছে না, বরং নেতার আসার খবরে শরীর গরম হয়ে আছে। নেতাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি, তাঁকে না দেখে ফিরব না। এই ধানগুলো আমি সরাসরি তাঁর হাতে তুলে দিতে চাই।" রিয়াজের এই অকৃত্রিম আনুগত্য ও ত্যাগ উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

হিথ্রো থেকে শাহজালাল: ফ্লাইটের খুঁটিনাটি ও শিডিউল

তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটটি লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে তাঁর এই সফর ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখা হচ্ছে।

ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সিলেটে অবতরণ করবে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার ‘Ground Turnaround’ শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়ন করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করবে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে। তাঁর এই দীর্ঘ সফর এবং অবতরণকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে ‘Security & Coordination’ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সংবর্ধনা ও পরবর্তী কর্মসূচি: ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে এভারকেয়ার

তারেক রহমানকে বরণ করতে পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের এক বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে ভিআইপি লাউঞ্জে (VIP Lounge) স্বাগত জানাবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখানে অপেক্ষমান জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

সংবর্ধনা শেষে তিনি সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, সেখানে চিকিৎসাধীন তাঁর মা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। এরপর বিমানবন্দর সড়ক ও কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে তাঁর বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

স্মৃতির রাজপথ ও নির্বাসনের সমাপ্তি ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ ১৮ মাস কারাবন্দী থাকার পর, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার ফেরা নয়, বরং বিএনপির তৃণমূলের জন্য এক নতুন আশার আলো। একের পর এক মামলা আর রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর আজ তিনি বিজয়ী বেশে ফিরছেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে।

সারাদেশ থেকে আসা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, দীর্ঘ নির্বাসন সত্ত্বেও দেশের মানুষের মনে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা বা ‘Market Value’ আজও অটুট।

Tags: tarique rahman bnp bangladesh politics political news dhaka airport khaleda zia mass reception homecoming london to dhaka 300 feet road dreamliner