• দেশজুড়ে
  • রাউজানে হিন্দু বাড়িতে ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিসংযোগ: দুষ্কৃতীদের ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

রাউজানে হিন্দু বাড়িতে ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিসংযোগ: দুষ্কৃতীদের ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাউজানে হিন্দু বাড়িতে ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিসংযোগ: দুষ্কৃতীদের ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের

একের পর এক বাড়িতে বাইরে থেকে শিকল তুলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক; অপরাধীদের তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি প্রশাসনের

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে একের পর এক রহস্যজনক ও পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শনকালে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে বিশেষ পুরস্কার (Financial Reward) ঘোষণা করেছে পুলিশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের এই ঘৃণ্য অপচেষ্টায় জড়িতদের তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে তাকে আর্থিক সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি।

ঘটনার নেপথ্যে ও পৈশাচিক পদ্ধতি

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। মঙ্গলবার ভোরে রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকায় কাতারপ্রবাসী সুখ শীলের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘরের প্রতিটি দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়, যাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লেও ভেতর থেকে কেউ বের হতে না পারেন। সুখ শীলের বোন ও বোনজামাই অনিল শীল সেই বাড়িতে বসবাস করতেন। সৌভাগ্যবশত তারা বিষয়টি সময়মতো টের পাওয়ায় বড় ধরণের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনে আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে রহস্যজনক আলামত উদ্ধার

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা কিছু ব্যানার ও কাগজ জব্দ করেছে, যাতে দেশের উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নাম এবং মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বা বিভ্রান্তি ছড়াতে দুষ্কৃতীরা কৌশলে এই আলামতগুলো সেখানে ফেলে গেছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো বর্তমানে ফরেনসিক (Forensic) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পরিকল্পিত ‘সিরিজ’ অগ্নিসংযোগের আতঙ্ক

রাউজানে গত কয়েকদিনে এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। এর আগে গত শনিবার ভোরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেউয়াপাড়া এলাকায় বিমল তালুকদার ও রুবেল দাশের বাড়িতেও একই কায়দায় বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে গত শুক্রবার কেউটিয়া এলাকায় সাধন বড়ুয়া এবং সোনা পালের বাড়িতেও কেরোসিনমাখা কাপড় ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানো হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপরাধীরা একই ‘মোডাস অপারেন্ডি’ (Modus Operandi) বা অপরাধের ধরন অনুসরণ করেছে— দরজায় শিকল তোলা এবং উঠানে কেরোসিন মিশ্রিত কাপড় ফেলে রাখা।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সহায়তার আশ্বাস

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বুধবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অভয় দিয়ে বলেন, “এটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা। এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে আমাদের গোয়েন্দা টিম (Intelligence Team) কাজ করছে। যারা এদের ধরিয়ে দিতে সাহায্য করবে, তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে।” একই সাথে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।

তদন্ত ও জননিরাপত্তা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাউজানের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল (Patrolling) বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টির এই ষড়যন্ত্র রুখতে স্থানীয় জনতাকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরণের সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা তৎপরতা দেখলেই দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার অনুরোধ করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

রাউজানের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মনে ভীতি কাজ করলেও পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং পুরস্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত অপরাধীদের দমনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: law enforcement arson attack hindu community human rights communal harmony investigation update rauzan arson police reward chattogram crime expatriate property