সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি
নিহত সম্রাট কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের মৃত অক্ষয় মন্ডলের ছেলে এবং আটক মো. সেলিম শেখ একই ইউনিয়নের বসা-কুষ্টিয়া গ্রামের মো. ইসলাম শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্রাট তার নিজের নামে 'সম্রাট বাহিনী' গঠন করে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালাত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতে পালিয়ে থেকেও সে তার বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার বিস্তারিত
দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক থাকার পর সম্প্রতি সম্রাট নিজ এলাকায় ফিরে আসে। কিছুদিন আগে সে হোসেনডাঙ্গা পুরোনো বাজার এলাকার শহীদ শেখের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বুধবার রাতে সম্রাট তার সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় ওই বাড়িতে যায়। এ সময় তারা 'ডাকাত, ডাকাত' বলে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সম্রাটকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও অস্ত্র উদ্ধার
রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার জানান, সম্রাট এর আগেও শহীদ শেখের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। বুধবার রাতে সেই দাবিকৃত টাকা নিতে গিয়ে সে শহীদ শেখকে বাড়িতে না পেয়ে তার ছেলেকে মারপিট করে। বাড়ির লোকজনের চিৎকারে এলাকার মানুষ এসে সম্রাটকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তার সহযোগী সেলিমকেও গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ সেলিমকে আটক করে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নিহত সম্রাটের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং আটক সেলিম পুলিশি হেফাজতে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।