সপরিবারে ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন-এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে এসেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং তাদের প্রিয় পোষ্য বিড়াল 'জেবু'।
বিশেষ বিমান যাত্রা ও সিলেটে যাত্রাবিরতি
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787-8 Dreamliner) ফ্লাইট নং বিজি-২০২ (BG-202) ঢাকার পথে রওনা হয়। তারেক রহমানের এই ফ্লাইটে দলের প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মীও একইসঙ্গে দেশে ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিমানটি প্রথমে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় এক ঘণ্টার Ground Turnaround-এর পর সকাল ১১টা ৪ মিনিটে সেটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের প্রস্তুতি ও Bulletproof Car
বিমানবন্দরে তারেক রহমানের নিরাপত্তা ও আগমন উপলক্ষে কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সকাল ৭টার কিছুক্ষণ আগে বিমানবন্দরে পৌঁছে যায় একটি বিশেষ Bulletproof Car। এই উচ্চ সুরক্ষামূলক গাড়িতে করেই তিনি বিমানবন্দর থেকে তার পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং যাতায়াত করবেন। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ 'রজনীগন্ধা'য় সংক্ষিপ্ত অবস্থান শেষে তিনি সড়কপথে কুড়িল হয়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চে যাবেন।
ঐতিহাসিক সংবর্ধনা ও মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ
বিএনপি নেতা-কর্মীরা পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা (Mass Reception) দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সংবর্ধনা মঞ্চে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন এবং দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।
সংবর্ধনা শেষে তিনি সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখানে বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি চিকিৎসাধীন মা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশে অবস্থান করবেন। দীর্ঘকাল পর মা ও ছেলের এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবন (ফিরোজা) যাবেন।