• রাজনীতি
  • শাহজালাল বিমানবন্দরে সিক্ত আবেগ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে জনতার প্লাবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

শাহজালাল বিমানবন্দরে সিক্ত আবেগ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে জনতার প্লাবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
শাহজালাল বিমানবন্দরে সিক্ত আবেগ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে জনতার প্লাবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার সাথে সাথে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে কোনো বিলাসবহুল গাড়ি নয়, বরং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত একটি সাধারণ বাসে চেপে তিনি রওনা হয়েছেন পূর্বাচলের ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ সংলগ্ন গণসংবর্ধনা স্থলের উদ্দেশ্যে।

মাটি ও ঘাস স্পর্শে আবেগঘন মুহূর্ত

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ (VVIP Lounge) থেকে বেরিয়েই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষা শেষে দেশের মাটিতে পা রেখেই তিনি নিজের জুতো খুলে ফেলেন। শিশিরভেজা ঘাস ও পৈতৃক ভিটার মাটির স্পর্শ নিতে খালি পায়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন তিনি। এ সময় তাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখায়। হাঁটু গেড়ে বসে তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন, যা উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর চোখে জল এনে দেয়। স্বদেশের মাটির প্রতি এই গভীর মমত্ববোধ এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার প্রস্তুতি ও বাসে যাত্রা

তারেক রহমানকে বরণ করতে পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় আয়োজিত হয়েছে বিশাল গণসংবর্ধনা। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি একটি বাসে চড়ে সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসের গায়ে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—যা বিএনপির আগামীর রাজনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কুড়িল মোড় সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে তৈরি করা হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের এক সুবিশাল মঞ্চ। সকাল থেকেই ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষের স্রোত এই এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পরিবার ও দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

তারেক রহমানের সাথে লন্ডন থেকে ফিরেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন (Immigration) প্রক্রিয়া শেষে জুবাইদা ও জাইমা রহমান সরাসরি গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা। নেতাকর্মীদের ভিড় ও আবেগের চাপে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়।

লন্ডন থেকে ঢাকা: দীর্ঘ সেই যাত্রা

তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর (Heathrow Airport) থেকে তিনি সপরিবারে যাত্রা শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। সেখানে সংক্ষিপ্ত ‘Ground Turnaround’ শেষে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে এবং ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় স্পর্শ করে।

পেছনের ইতিহাস: নির্বাসনের ১৮ বছর

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১/১১-এর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং একের পর এক মামলার কারণে তার দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর আজ তার এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণসংবর্ধনা স্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে ড্রোন (Drone) ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো সমাবেশ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

Tags: tarique rahman bangladesh politics dhaka airport bangladesh news bnp leader purbachal reception tarique returns political homecoming